০৩ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ৫:৫৩ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) অবাধে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাক ও ট্রলারে করে এই মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটা, জমি ভরাট প্রকল্প ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণে। এতে কৃষি উৎপাদন যেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুরমা, বাংলাবাজার, লক্ষ্মীপুর, দোয়ারাবাজার সদর, নরসিংপুর, বোগলাবাজার, পান্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নসহ প্রায় সব এলাকাতেই দিনের পর দিন টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। কোথাও রাতের আঁধারে, আবার কোথাও প্রকাশ্যেই চলছে এই কর্মকাণ্ড।প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী মাটিখেকো চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমি রক্ষা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির উপরিভাগের এই উর্বর মাটি অপসারণের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একাধিক মৌসুমেও আগের মতো ফলন মিলছে না। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো।

শান্তিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘জমির উপরের মাটিটাই সবচেয়ে উর্বর। সেটা কেটে নেওয়ার পর ধান তো দূরের কথা, ঘাসও ঠিকমতো জন্মায় না। কয়েক হাজার টাকার লোভে কিছু মানুষ পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, ‘টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে। কৃষকদের আমরা বারবার পরামর্শ দিচ্ছি, যেন তারা জমির টপ সয়েল বিক্রি না করেন।’

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, ‘ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযানে জরিমানা করা হয়েছে। এই কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন আরও কঠোর হবে।’


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, ফসল, কৃষক, দোয়ারাবাজার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ