দিরাইয়ে মদসহ আটক এক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:০৪ অপরাহ্ন
সিলেটের সীমান্ত এলাকায় একের পর এক পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরের মতো উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জৈন্তাপুর উপজেলার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে ১৪টি ভারতীয় পাওয়ার জেল এবং ১৪টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এগুলো বিস্ফোরকের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
এ অবস্থায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার এই ফাঁকফোকর যদি বন্ধ না করা যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও-এমনটা বলছেন সচেতন মহল।
র্যাব-৯ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিভিন্ন অভিযানে ৪ হাজার ৬৩০ গ্রাম বিস্ফোরক এবং ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৩৬টি দেশি–বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৫টি ম্যাগজিন, একটি সাউন্ড গ্রেনেড, ৫টি পেট্রোল বোমা এবং ৫৩টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কাটাগাং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ১৪টি ভারতীয় পাওয়ার জেল এবং ১৪টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘উদ্ধারকৃত জেল ও ডেটোনেটরগুলো উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। নাশকতার কাজে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।’
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁওয়ে সীমান্তসংলগ্ন মাইজগাঁও গ্রামে ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ গজের দূরত্বে এগুলো শুকনো পাতার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত ডেটোনেটর দিয়ে শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করা সম্ভব।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘নির্বাচন অতি সন্নিকটে। সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরক সরঞ্জাম এবং আগ্নেয়াস্ত্র অনুপ্রবেশের খবরগুলো খুবই শঙ্কার বিষয়। এটি শুধু নির্বাচনের নিরাপত্তা নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। সীমান্ত নিরাপত্তার ফাঁক থাকলে তা দেশের আইনশৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’
সিলেট বিজিবির (৪৮ ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর উদ্ধারের ঘটনাটি বিজিবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অতৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র বা নিষিদ্ধ বিস্ফোরক দ্রব্য প্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অস্থানে রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সিলেট, সীমান্ত, বিস্ফোরক উদ্ধার