২০ মার্চ ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / জীববৈচিত্র

মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে কমছে পরিযায়ী পাখি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

একসময় শীত এলেই পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে উঠত মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বাইক্কা বিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দেশি–বিদেশি পর্যটকরা ভিড় করতেন এই বিলের পাড়ে। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বিস্তৃত হাইল হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাইক্কা বিল। একসময় এই বিল ছিল বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, বক ও জলচর পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বর্তমানে কিছু দেশি পাখি দেখা গেলেও পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি খুবই কম।

পরিবেশবিদ ও পাখি গবেষকদের মতে, পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিল থেকে জলজ উদ্ভিদ তুলে ফেলা। কচুরিপানা, শাপলা ও শালুকের মতো উদ্ভিদ না থাকায় পাখিরা বসে খাবার খেতে ও বিশ্রাম নিতে পারছে না। পাশাপাশি হাওরে গাছগাছালি কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত ভরাট, সেচ ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন এবং নির্বিচারে পাখি শিকারের কারণেও পাখির আবাস ধ্বংস হচ্ছে।

২০০৩ সালের ১ জুলাই ১০০ হেক্টর জলাভূমিকে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করে। মাছ ধরা ও জলজ উদ্ভিদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার বন্ধ হয়নি।

বালিহাঁস, নীলমাথা হাঁস, রাজহাঁস, বড় ও ছোট পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, ধুপনি বক, গো-বক, মাঝেলা বগা, লালচে বকসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখির দেখা মিলত এই বিলে। বর্তমানে এসবের অধিকাংশই অনুপস্থিত। শুধু বিলের পাড়ের গাছপালায় শালিক, ঘুঘু, দোয়েল, চড়ুই, বুলবুলি ও টুনটুনির মতো কয়েকটি দেশি প্রজাতির পাখি টিকে আছে।

পরিবেশকর্মী আহাদ মিয়া বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিলে জলজ ও স্থলজ পরিবেশের অবক্ষয় ঘটছে। মানুষই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলেই পরিযায়ী পাখি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

বাইক্কা বিলের দায়িত্বে থাকা বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, ‘কয়েক বছর আগে পাখির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এখন কচুরিপানা, শাপলা-শালুক না থাকায় এবং কারেন্ট জাল ও সেচ মেশিন ব্যবহারের কারণে পাখি কমছে। তবে শীত পুরোপুরি আসেনি, আশা করছি কিছু পাখি আসবে।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘হাওরের গভীরতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। যেখানে আগে সারা বছর পানি থাকত, এখন সেখানে কয়েক মাসেই পানি শুকিয়ে যায়। মানুষের চলাচলও বেড়েছে। এসব কারণেই পাখি কম আসছে।’


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

মৌলভীবাজার, বাইক্কা বিল, কমছে, পরিযায়ী, পাখি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ