ধান পচে গন্ধ, হাওরে ডুবছে স্বপ্ন: চরম দুশ্চিন্তায় জগন্নাথপুরের কৃষক
কৃষি
প্রকাশঃ ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৫১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরে এখন পুরোদমে চলছে প্রধান ফসল বোরোর আবাদ। এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বোরো ধান প্রধান উৎস। জেলার কমপক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শেষে এখন চারা রোপণের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস থেকে হাওরের কৃষকরা বীজতলা গোছানো, বীজ বপন এবং চারা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছেন। পৌষের শুরু থেকেই প্রতিটি হাওর পাড়ে বোরো ধানের চারা রোপণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বোরো আবাদের এ মৌসুম হাওরাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি আয়ের উৎস নিয়ে এসেছে। কৃষিকাজে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। কৃষকের জমি চাষাবাদের হার যত বাড়ছে, শ্রমিকের চাহিদা ততই বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগারের সুযোগও সমানুপাতিক হারে বাড়ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর হাইব্রিড, উফশী ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধানের বীজতলা ৬০ হেক্টর। এর মধ্যে গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় ৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা-মাড়াই কাজ শেষপর্যায়ে চলে এসেছে এবং একই সঙ্গে এলাকার কৃষকরা বোরো চাষের কাজ শুরু করেছেন। কৃষকরা বোরো চাষের প্রথমপর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারা রোপণে।
শাল্লা এবং দিরাই উপজেলায় দেখা যায়, বোরো আবাদের জন্য কেউ কেউ চারা সংগ্রহ করছেন এবং কোথাও কোথাও রোপণ কাজ শুরু করেছেন। শাল্লা উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের কৃষক সেলিম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করবেন। এরই মধ্যে তিন একর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন। জমি চাষাবাদ শেষে বীজতলা থেকে যে চারা অতিরিক্ত থাকবে, তা বিক্রি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের কৃষক জলিল মিয়া জানান, এ বছর তিনি ২৪ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ঝলক জাতসহ অন্যান্য জাতের ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যেই জমিতে চারা রোপণ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মধ্যনগর উপজেলার কৃষি শ্রমিক রাজিব মিয়া বলেন, ‘বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতিতে জালা টানার কাজ করছি, অর্থাৎ বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রায় ১০ একর জমিতে বোরো ধানের রোপণ কাজ শুরু হবে। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে জমিতে চারা সংগ্রহ ও রোপণের কাজ করে থাকি।’
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, ‘উপজেলায় এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫০৫ হেক্টর। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ২৭৭ হেক্টর, নন-হাওরে ৭৭ হেক্টরসহ ১ হাজার ১৩৭ হেক্টর। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, এ বছর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর। এই লক্ষ্যে বীজতলা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ হেক্টর। ইতিমধ্যে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। আজ পর্যন্ত প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর হাইব্রিড, উফশী ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে।’
তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জে কৃষকরা পুরোদমে বীজতলা প্রস্তুত কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বীজতলার কাজ শেষপর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু কিছু এলাকায় রোপণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলায় কোনো সমস্যা হয়নি।’
সুনামগঞ্জ, হাওর, ধান, রোপণ, ব্যস্ত, কৃষক