সিলেট হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
পশু-প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত চার ধাপে এই টিকা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় অর্ধমাস ধরে বন্ধ রয়েছে এ সেবা। বাধ্য হয়ে রোগীদের বাড়তি দামে ওষুধ কিনে ফার্মেসি থেকে এনে নিতে হচ্ছে টিকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যের অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) সরবরাহ না থাকায় জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই বেশ কয়েকজন রোগী সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। চলতি বছরের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১২৩ জন রোগী বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে হাসপাতালে পুশ করিয়েছেন।
জানা গেছে ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা চলে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক দীর্ঘদিন ধরে না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টিকরিয়া গ্রামের দিহান আহমেদ বলেন, ‘আমার ৬ বছরের ভাইকে বিড়াল কামড়ালে হাসপাতালে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে ফার্মেসি থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে কিনতে হয়েছে।’
রাজঘাট চা—বাগানের আহত পার্থ মণ্ডল জানান, ‘রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরে কামড়ালে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে বেশি দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হই।’
একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন সাইটুলা গ্রামের নাসিমা বেগম। তার ছেলেকে কুকুরে কামড়ালে হাসপাতাল থেকে ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনতে বলা হয়।
বাজারে সাধারণ এআরভি ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ৫০০ টাকা, একটি ডোজ দিয়ে চারজন রোগীকে দেওয়া সম্ভব হয়। গভীর ক্ষতের রোগীদের ব্যবহৃত আরআইজি ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার টাকা, যা অনেকের জন্যই অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট ডা. বিশ্বজিত দেব জানান, রোগীর ক্ষত ও ওজন অনুযায়ী এআরভি বা আরআইজি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। ২০-২৫ কেজি ওজনের হিসাব ধরে প্রতিটি ডোজ ক্ষতস্থানের চারপাশে দেওয়া হয়। গভীর ক্ষত বা বেশি ওজনের রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ দিতে হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘ভ্যাকসিনের সংকট আছে, তাই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়া মাত্রই আবার বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে।’
জলাতঙ্ক, ভ্যাকসিন, সংকটে, বাড়তি, খরচ, ভোগান্তি