
সিলেটে ‘জুলাইযোদ্ধা সংসদ’ নামে একটি সংগঠনের স্থগিতাদেশ বহাল থাকাবস্থায় একই নামে আরেকটি সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোনটি আসল সংগঠন এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
গত ২১ নভেম্বর বিকেলে নগরীর মুসলিম সাহিত্য সংসদের হলরুমে গেজেটপ্রাপ্ত সকল জুলাইযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে লিটন আহমদকে আহ্বায়ক ও নোমান আহমদকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট জুলাইযোদ্ধা সংসদ নামে একটি কমিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে গত ৮ জুলাই ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট জেলা কমিটি অনুমোদন দেয় জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি। এটি ছিল প্রথম কমিটি। পরবর্তীতে এই কমিটি স্থগিত করা হয়। এখনও এই কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বা বাতিল করা হয়নি। এরই মধ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই জুলাইযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আরমান শাফিন, সদস্য সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম আপন এবং মুখ্য সংগঠক মাসুদ রানা সৌরভ স্বাক্ষরিত ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর ১১ জুলাই নগরীর দাড়িয়াপাড়াস্থ প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের স্মৃতিবিজড়িত সালমান শাহ ভবনে প্রথম সাংগঠনিক সভাও করে এ কমিটি। তাছাড়া গেল ১৫ আগস্ট সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, বিছানাকান্দি ও সাদাপাথরে অবৈধভাবে পাথর-বালি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে নগরীর বন্দরবাজারে বিশাল মানববন্ধন করে এ সংগঠন। পরবর্তীতে কমিটির কয়েকজন সদস্য বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠায় সেইসময় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সিলেট জেলা কমিটি স্থগিত রাখা হয়। এরপর থেকেই জুলাই যোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা কমিটির সকল কার্যক্রম থেমে যায়।
এ অবস্থায় গত ২১ নভেম্বর বিকেলে নগরীর মুসলিম সাহিত্য সংসদের হলরুমে গেজেটপ্রাপ্ত সকল জুলাইযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে লিটন আহমদকে আহ্বায়ক ও নোমান আহমদকে সদস্য সচিব করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট জুলাইযোদ্ধা সংসদ নামে আরেকটি কমিটির আত্মপ্র্রকাশ করে সিলেটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুলাই যোদ্ধা বলেন, ‘এগুলো কারা অনুমোদন দিয়েছেন আমরা জানি না, একটা কমিটি জুলাই মাসে করা হয়েছিল তারপর কোন একটা কারণ বশত: এ কমিটি স্থগিত করেছে কেন্দ্র। তাহলে আবার নভেম্বর মাসে নতুন একটা কমিটি দেখি একই জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে। এটি আমাদের গণঅভ্যুত্থানে আকাঙ্খাকার সাথে প্রতারণা। কেন্দ্রীয় কমিটিকে না জানিয়ে এভাবে কমিটি গঠন করে যারা পত্র পত্রিকায় খবর রটাচ্ছেন তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভিন্ন বলেই আমি মনে করি।
জুলাইযোদ্ধা সংসদের সিলেট জেলার স্থগিত হওয়া কমিটির আহবায়ক আবদুর রহিম বলেন, ‘আমাদের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এরপর আর কমিটি হয়নি, আমাদেরটা বাতিলও করেনি কেন্দ্র। তবে নতুন যে জুলাইযোদ্ধা সংসদ কমিটি হয়েছে তাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’
তবে পূর্বে জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে সিলেটে কমিটি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই জানিয়ে নতুন কমিটির আহবায়ক লিটন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কমিটিটা করতে অনুপ্রানিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা জুলাই যোদ্ধারা একত্রিত হন। তার কথার প্রেক্ষিতে আমরা সকল গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা একত্রিত হয়ে মুসলিম সাহিত্য সংসদের হলরুমে একটি কমিটি গঠন করি। তবে সেই সময় এটির কোন নাম নির্ধারন হয়নি। তবে গণমাধ্যমে আমাদের কমিটি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর সময় ‘জুলাইযোদ্ধা সংসদ’ নাম নির্ধারণ করি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতামও না এই নামে কোন কমিটি আগে সিলেটে ছিল। তাছাড়া আমার লোভ নেই যে, আমি প্রতিপক্ষ হয়ে কোন কমিটি গঠন করব। আমাদের কেন্দ্র বলতে কিছু নাই। কারণ এটা আমরা সিলেটের জুলাইযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে সবার সম্মতিতে করেছি।’
এদিকে জুলাইযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম আপন বলেন, ‘সিলেটে জেলা কমিটি এখন স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। তবে নতুন যে জুলাইযোদ্ধা সংসদ নামে কমিটি আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই এটি একটি ভূয়া কমিটি।
শেয়ার করুনঃ
সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, জুলাই যোদ্ধা সংসদ, কমিটি, গেজেটপ্রাপ্তরা


