‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সিলেটই পাল্টে দিবে অর্থনীতির চাকা’
মুক্তমত
প্রকাশঃ ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:২৪ অপরাহ্ন
“শাবিপ্রবির পর্দায় পর্দায় দুর্নীতি হচ্ছে” শিরোনামে গত ১০ নভেম্বর সিলেট ভয়েস-এ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আলী হায়দার চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিলো। এই সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপি আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সিলেট ভয়েস এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা প্রতিবাদলিপি হুবহু প্রকাশ করছি এবং এ বিষয়ে সম্পাদকের বক্তব্য সংযুক্ত করছি।
সিলেট ভয়েস অনলাইন পোর্টালে ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত “শাবিপ্রবির পর্দায় পর্দায় দুর্নীতি হচ্ছে” শিরোনামের সাক্ষাৎকারটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসনের নজরে এসেছে। সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসন, শিক্ষক-গবেষণা কার্যক্রম ও একাডেমিক মান নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত বলে প্রতীয়মান হয়। প্রকাশিত নিউজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য নিম্নরূপঃ
১. “শাবিপ্রবিতে ১৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে” এই তথ্য সম্পূর্ণ ভূল।
বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যার মোট বাজেট ১,০২৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ডিপিপি এবং পিপিআর চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রতিটি কাজ সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে। অতএব, “১৭টি প্রকল্পে অনিয়ম হচ্ছে” এই বক্তব্য সম্পূর্ণ তথ্যবিহীন, অতিরঞ্জিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচারিত।
২. “প্রকল্পে দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতি চলছে” এ দাবি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চলমান প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি এবং প্লানিং কমিশনকে অবহিত করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ না থাকার মতো কঠোর আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে। সুতরাং “পর্দায় পর্দায় দুর্নীতি হচ্ছে” এই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বাস্তবতার পরিপন্থী।
৩. “দায়িত্বশীল কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না” এ অভিযোগও মিথ্যা।
চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন, সুপারভিশন কমিটি, ইউজিসি, প্রকৌশল দপ্তর এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরসহ একাধিক তদারকি কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অতএব, “দায়িত্বশীল কেউ কাজ করছেন না” এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গত। এছাড়া, ইউজিসি একটি ও ডিপিপিভুক্ত দুইটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি নিয়মিতভাবে প্রকল্পের তদারকি করছে। ইউজিসি কর্তৃক গঠিত কমিটি, প্রকৌশল দপ্তর, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর এবং সুপারভিশন কনসালটেন্ট মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে প্রকল্পের মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হয়।
৪. “চিফ ইঞ্জিনিয়ারের মেয়াদ বাড়ানো দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে” এই মন্তব্যও বিভ্রান্তিকর।
কোনো কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হয়। এটি কোনো ব্যক্তিগত বা গোপন প্রক্রিয়া নয়। কোনো প্রকার “দুর্নীতির ইঙ্গিত” এই সিদ্ধান্তে বিদ্যমান নয়, বরং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অতীতেও একাধিক কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক কর্মরত ছিলেন।
৫. “প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের ভূমিকা রহস্যজনক” এই মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসম্মানজনক ও প্রমাণবিহীন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সিন্ডিকেট ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে পরিচালিত হয়। কোনো তথ্য-প্রমাণ ব্যতীত “রহস্যজনক” আখ্যা দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং একটি অপেশাদার ও সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা বলে বিবেচিত।
৬. “গবেষণার মান খারাপ, শিক্ষকরা লোভে প্রকল্প নিচ্ছেন” এ দাবি মানহানিকর ও প্রমাণবিহীন।
শাবিপ্রবির শিক্ষকরা দেশের ও বিদেশের স্বনামধন্য জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন। গবেষণার জন্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান বৃদ্ধি করেছে, নতুন গবেষণা ল্যাব ও সহযোগিতা প্রকল্প চালু হয়েছে।
“লোভ” বা “প্রকল্পবাজী” জাতীয় মন্তব্য গবেষণার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে যা একাডেমিক নীতির পরিপন্থী।
৭. “সিলেটের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরে যাচ্ছেন” এই মন্তব্যও তথ্যবিহীন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিলেট অঞ্চলের মানুষের সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতেই এগিয়ে চলেছে। শাবিপ্রবি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে আসেন পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখানে কর্মরত। শিক্ষক ও প্রশাসনের দায়িত্ব নির্ধারিত হয় যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে, আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। অতএব, “সিলেটের মানুষ সরে যাচ্ছেন” এটি বিভাজন সৃষ্টিকারী, অসত্য এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক প্রমাণবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায় এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও সিলেট ভয়েস অনলাইন পোর্টালের কর্তৃপক্ষকে তথ্য যাচাই ছাড়া এমন সাক্ষাৎকার প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এছাড়া দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযুক্ত করা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
উল্লেখ্য যে, বক্তব্য প্রদানকারীর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
সিলেট ভয়েস মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিতে অটল।
“শাবিপ্রবির পর্দায় পর্দায় দুর্নীতি হচ্ছে’’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর ড. মো. গোলাম আলী হায়দার চৌধুরীর নিজস্ব মতামত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে সিলেট ভয়েস মনগড়া কোনো তথ্য তুলে ধরেনি, বরং সাক্ষাৎকারদাতার বক্তব্যের ধারণকৃত অংশ থেকে প্রকাশ করেছে।
আমাদের সম্পাদকীয় নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মতামত জাতীয় যে কোন প্রকাশনায় প্রকাশিত মন্তব্যের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে বক্তা বা লেখকের। এই প্রকাশনায় সিলেট ভয়েস-এর সম্পাদকীয় অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে না। তাছাড়া নীতিমালার বিষয়টি সাক্ষাৎকারের শেষেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একান্ত সাক্ষাৎকারে কোনো ব্যক্তির বক্তব্য হুবহু প্রকাশের স্বাধীনতা সিলেট ভয়েসের সম্পাদকীয় নীতিমালায় রয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ মনক্ষুণ্ন বা বিক্ষুব্ধ হলে তার বক্তব্য প্রদান বা প্রতিবাদ প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে। শাবিপ্রবি প্রশাসনের প্রতিবাদলিপি গ্রহণ তার একটি দৃষ্টান্ত।
শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রেরিত প্রতিবাদলিপি আমরা পাঠকদের অবগতির জন্য হুবহু এবং যে স্থানে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে সেস্থানে প্রকাশ করেছি, যাতে বিষয়টি নিয়ে পাঠক নিজস্ব ধারণা গঠনের পূর্ণ সুযোগ পান।
সিলেট ভয়েস নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী তথ্যের যথার্থতা, ভারসাম্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই তিনটি নীতিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতেও এই নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।
শাবিপ্রবি, প্রতিবাদ, সাক্ষাৎকার, অনিয়ম, দুর্নীতি,