২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ১:৫৬ অপরাহ্ন
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫০ কোটি টাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের সুফল এখনো নাগরিকদের হাতে পৌঁছায়নি। প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে, ফলে পৌরবাসীর মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সারাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। এর আওতায় জগন্নাথপুর পৌরসভার জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল পৌরসভা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
প্রকল্পে একটি গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওভারহেড ট্যাংক, সলিড ওয়েস্ট কম্পোস্টিং সিস্টেম, ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, ৯৫টি গভীর নলকূপ, ৮ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ১৫টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন, ৬টি পাবলিক টয়লেট, ৩৬টি ডাস্টবিন ও একটি পানি সরবরাহ অফিস নির্মাণের কথা ছিল। তবে এর অনেক কাজই এখনো অসমাপ্ত।
এ পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ শেষ হলেও নলকূপ, ল্যাট্রিন ও ডাস্টবিনের বেশির ভাগ কাজ হয়নি। এমনকি দুটি তিন টন ওজনের ট্রাক বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো আসেনি। ভূমি জটিলতায় সলিড ওয়েস্ট কম্পোস্টিং সিস্টেমও বাতিল করা হয়েছে।
পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র সফিকুল হক বলেন, “আমাদের সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও ঠিকাদারি গাফিলতিতে কাজ থেমে গেছে। আমার ওয়ার্ডে একটি ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার চলে যায়।”
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানি ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান হতো। সাত বছরেও কাজ শেষ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী বলেন, অধিকাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে, তবে গত এক বছর ধরে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিছু কাজ এখন দৃশ্যমান, আশা করছি শিগগিরই পুরো প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, পানি প্রকল্প, অনিয়ম