জাফলংয়ের কূপ থেকে দেশীয় পিস্তলসহ আটক তিনজন
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১:৩০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে জাতীয় জরুরি সেবাকেন্দ্র ৯৯৯-এ ফোন দিয়েও অ্যাম্বুলেন্স সেবা মিলছে না। জেলা প্রশাসনের অভিযানে সদর হাসপাতাল থেকে দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট উচ্ছেদের পর থেকেই সেবা বন্ধ রেখেছেন চালক ও মালিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে থাকা দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালের ভেতরের অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ড সরিয়ে দেয়।
বহুদিন ধরেই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সিন্ডিকেটের নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী গাড়ি ছাড়া, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের। অভিযানের প্রতিবাদে সকাল থেকেই ধর্মঘট ঘোষণা করেন অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও মরদেহ পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সিলেটে রেফার করা রোগীদের জন্য বড় বিপর্যয় নেমে আসে।
এদিকে, অক্সিজেন সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি না পাওয়ায় আটকা পড়ে নিওনেটাল ওয়ার্ডে ভর্তি দুই দিনের এক নবজাতক, মরদেহসহ আরও বেশ কয়েকজন ক্রিটিকাল রোগী। আত্মীয়স্বজনদের অনুনয়—বিনয়েও মন গলেনি চালকদের।
দুপুরে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কোলে দুই দিনের নবজাতককে নিয়ে অসহায়ভাবে বসে আছেন হাজেরা বেগম। তিনি জামালগঞ্জ থানার সাচনা গ্রামের বাসিন্দা। শিশুটির শরীরে লাগানো অক্সিজেন মাস্ক, কিন্তু তাকে দ্রুত সিলেটে নেওয়ার প্রয়োজন।
নবজাতকের ভাই বাধন মিয়া বলেন, ‘দুই দিন আগে খন্দকার আলকাছ আমিনা হাসপাতালে আমার ভাইয়ের জন্ম হয়। পরদিন ঠান্ডাজনিত কারণে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে ডাক্তার জানালেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিতে হবে। কিন্তু অভিযানের পর থেকে কোনো বেসরকারি এম্বুল্যান্স হাসপাতাল এলাকায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। শেষে ৯৯৯—এ ফোন দেই, তারা একটা অ্যাম্বুল্যান্সের নম্বর দেয়। কিন্তু তারা বলে প্রশাসনের অনুমতি পত্র ছাড়া সেবা দিতে পারবে না, আর তাদের অ্যাম্বুল্যান্সে অক্সিজেনও নেই। অথচ ডাক্তার বলেছেন, শিশুর অক্সিজেন খোলা যাবে না, সবসময় লাগিয়ে রাখতে হবে।’
অ্যাম্বুল্যান্স বন্ধ থাকায় জরুরি রোগী পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও এম্বুল্যান্স মালিকদের দ্বন্দ্বের বলি যেন না হয় সাধারণ মানুষ ও রোগীরা।
স্মৃতি অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের ড্রাইভার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় অ্যাম্বুল্যান্স মালিক সমিতি নেই। জেলা মিনি মাইক্রোবাস মালিক সমিতি আওতাধীন আছি আমরা। জেলায় মাত্র ২০ অ্যাম্বুল্যান্স সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি আছে নিবন্ধিত, আর বাকী ১০ টি আছে অনিবন্ধিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কদিন পর পরই আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। সারাদেশের সব হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্স থাকে, শুধু সুনামগঞ্জে ব্যতিক্রম। আমাদের একটাই দাবি হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুল্যান্স রাখার অনুমতি দিতে হবে।’
জেলা মিনি মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি সুজাউল করিম জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মানুষেদের সেবা দিচ্ছে। তারা যদি হাসপাতালে না থাকে তাহলে সেবা দিবে কিভাবে। নবজাতকের বিষয়টি দেখছি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভারদের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। হাসপাতালের একটি সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স অনেকদিন ধরে নষ্ট। ব্যাবহার অনুপযোগী হওয়ায় নতুন অ্যাম্বুল্যান্স বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সেবা চালুর চেষ্টা চলছে।’
অন্যদিকে, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তাদের ধর্মঘটের বিষয়টি জেনেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপে আছি। জেলা প্রশাসনের অভিযানে হাসপাতাল চত্বরে থাকা সব অ্যাম্বুল্যান্স সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘রোগীদের জন্য উপজেলা থেকে অ্যাম্বুল্যান্স এনে সেবা দেয়ার জন্য হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ, হাসপাতাল, অভিযান, বন্ধ, অ্যাম্বুল্যান্স, সেবা, দুর্ভোগে রোগীরা