২০ এপ্রিল ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

জগন্নাথপুরে খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ৭:৪০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১৫ জন ডিলার নিয়োগের জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবেদন আহ্বান করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল আবেদন জমার শেষ দিন। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্যাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১৫ জনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি এলাকার রুহুল আমীন খান, শাহারপাড়ার লিকসন মিয়া ও পাটলী ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের এনামুল ইসলাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রুহুল আমীন খান অভিযোগে উল্লেখ করেন, “ইউএনওর কথা বলে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন আমার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আমাকে ডিলার দেননি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ডিলার নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ঘরের মালিকের সঙ্গে চুক্তিনামা জমা দিতে হলেও যাকে ডিলার দেওয়া হয়েছে, তার কোনো চুক্তিনামা ছিল না। আমি সব শর্ত পূরণ করেও বঞ্চিত হয়েছি।”

একইভাবে শাহারপাড়ার লিকসন মিয়া অভিযোগে বলেন, “খাদ্য কর্মকর্তা ইউএনওর কথা বলে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দুই লাখ টাকা দিলেও ডিলার পদ পাইনি।”

পাটলী ইউনিয়নের এনামুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, “আমি প্রবাসী হলেও গত পাঁচ বছর ধরে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছি। কিন্তু আমাকে প্রবাসী দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির শর্তে প্রবাসী হলে আবেদন করা যাবে না—এমন কোনো নিয়ম ছিল না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যাকে ডিলার করা হয়েছে, সেই সি এস এস এন্টারপ্রাইজের খাদ্যশস্য ক্রয়-বিক্রয় ও গুদামজাত করার বৈধ লাইসেন্স নেই। আবেদনকালে এটি জমা দেওয়ার শর্ত ছিল। ফলে নিয়োগে নীতি বহির্ভূত কাজ হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটটি ইউনিয়নের ১৫টি ডিলার পদের বিপরীতে মোট ৬৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—কলকলিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদগঞ্জ বাজারের হাবিবুর রহমান, খাশিলা মার্কেটের আবু সুফিয়ান তালুকদার, পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেটের মারজান আহমেদ চৌধুরী, রসুলগঞ্জ বাজারের আনোয়ার হোসেন, সৈয়দপুরের সৈয়দ আব্দুল আলী, শাহারপাড়ার আজিজুর রহমান, আশারকান্দির বড়ফেচি বাজারের চাঁন মিয়া, রানীগঞ্জ বাজারের রুবেল মিয়া, রৌয়াইল বাজারের সুহেল মিয়া, মীরপুর বাজারের মাহবুবুল আলম, কেউনবাড়ি বাজারের কাওছার আহমেদ রুবেল, চিলাউড়া বাজারের পাবেল মিয়া, বাউধরন বাজারের নুরুল আমীন, পাইলগাঁও আলীগঞ্জ বাজারের সামছ উদ্দিন এবং সাতা পয়েন্টের আজাদ হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন বলেন, “ডিলার হতে না পেরে কয়েকজন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ইউএনও স্যারের নাম ব্যবহার করে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। কমিটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দিয়েছে।”

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, অভিযোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ