২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৫৬ অপরাহ্ন
সিলেট অঞ্চলের ট্রেনযাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমে ব্যাপক জটিলতা দেখা দেওয়ায় জনপ্রিয় রুটগুলোর টিকিট খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ‘সোল্ড আউট’ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এপে ডুকে ঢাকা-সিলেট অথবা সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীদের ট্রেনের টিকিটের জন্য খোঁজ করলেও কোন টিকিট পাওয়া যায় না।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, টিকিট খোলার সঙ্গে সঙ্গে সিন্ডিকেটচক্র অনলাইনে বিপুল সংখ্যক টিকিট দখল করে নিচ্ছে, পরে তা বাড়তি দামে বিক্রি করছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, প্রচণ্ড চাহিদা ও সীমিত আসনের কারণে টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ট্রেনে কোচ বাড়ানো, আসনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ব্ল্যাক মার্কেটচক্র দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ এখন অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে রূপ নিচ্ছে—যাতে প্রকৃত যাত্রীরা ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়ে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন।
ব্যবসায়ী আতিউর রহমান জানান, কর্মস্থলে ফেরার জন্য টিকিট নিতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। এখন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বিমানে ঢাকা যাওয়া ছাড়াতো কোন উপায় নাই।
সাউথইস্ট ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক সরোয়ার রহমান জানান, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে চাইলেও অনলাইনে টিকিট না পেয়ে ব্ল্যাক মার্কেটের দালালদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে বাধ্য হই।
ব্যবসায়ী হারুন আহমেদ জানান, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয় তাকে। কালনী এক্সপ্রেসের অফিসিয়াল টিকিটের দাম ৩৫০ টাকা হলেও ব্ল্যাক মার্কেট থেকে ১,০০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে এ ধরনের টিকিট ব্যবহার করলে রেলওয়ের ‘টিকিটধারী নিজে ভ্রমণ’ নীতির কারণে জরিমানার ঝুঁকি থাকে।
কুলাউড়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ বলেন, “আমরা সকালের আগেই লগইন করি, কিন্তু ওয়েবসাইটে ঢুকেও দেখি ঢাকা-সিলেট রুটের একটিও টিকিট নেই। কে করছে এসব আমরা নিজেরাও জানি না। এসবের তদন্ত প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাস্টার মোহাম্মদ সাকাওয়াত হোসেন জানান, আসনসংখ্যা খুবই সীমিত, কালনী এক্সপ্রেসে ৮১টি, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে ৭০টি, পারাবত এক্সপ্রেসে ১০৫টি, উপবন এক্সপ্রেসে ৬৫টি, পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে ৪৭টি এবং উদয়ন এক্সপ্রেসে মাত্র ৩০টি আসন।
এদিকে মঙ্গলবার সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। এসময় পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এখন টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, তারপরও কীভাবে কালোবাজারি হয়, সেটা আমরা তদন্ত করে দেখব। স্টেশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এতে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সিলেট ভয়েসকে বলেন, "আমরা প্রতিদিন সকাল ৮ টায় অনলাইনে ট্রেনের টিকিট ছেড়ে থাকি তবে সেখানে দেখা যায় দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা কিভাবে হচ্ছে সেটা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তবে সিলেটের জন্য আমাদের টিকিট বরাদ্দ তাকে ৭০০ সেখানে চাহিদা ৩ হাজারের মতো।"
এসময় সিলেটের ট্রেন বাড়ানো হবে কি না এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সিলেটের জন্য ট্রেন বাড়ানো হবে কি না সেটি উর্ধ্বতন স্যাররা বলতে পারেন, তবে আমাদের ইঞ্জিন ও বগির সংকট আছে সেগুলো বিবেচনা করেই একটি ব্যবস্থা হয়তো নেয়া হবে।"
অনলাইন, ট্রেন, টিকিট উধাও, বিপাক, সিলেট, যাত্রীরা