২৫ মে ২০২৬

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি / সংস্কৃতি

অনুমতি ছাড়া শাহ আবদুল করিমের গান ব্যবহার, গ্রামীণফোনের নিকট ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:৩৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম। সংগৃহীত

কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের কপিরাইটকৃত গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করার অভিযোগে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের (জিপি) বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

 

একইসঙ্গে আগামী সাতদিনের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গত ২৭ আগস্ট করিম পুত্র শাহ নূরজালালের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমানের কাছে নোটিশটি পাঠান। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ সিলেট ভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

 

নোটিশে বলা হয়, গ্রামীণফোন অনুমতি, লাইসেন্স বা স্বীকৃতি ছাড়াই শাহ আবদুল করিমের গান তাদের টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (যা ইউটিউবে পাওয়া যায়) এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত আরেকটি বিজ্ঞাপন (ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারিত)।

 

অভিযোগে কপিরাইট লঙ্ঘন ছাড়াও শাহ আবদুল করিমকে কৃতিত্ব না দেওয়াকে তার নৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণফোনের (জিপি ৪জি) প্রচারণায় এসব গান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিটি ‘অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে’ বলেও নোটিশে দাবি করা হয়।

 

তাছাড়া অবিলম্বে শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব, ফেসবুক ও টেলিভিশনসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে কপিরাইট লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর দাবিও করা হয়।

 

নোটিশে আরও বলা হয়, শাহ আবদুল করিমকে গানের লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ কোটি টাকা ( গান প্রতি ১০ কোটি টাকা) দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের লঙ্ঘন না করা হয় সেজন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। 

 

এদিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কপিরাইট আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। 

 

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ বলেন, ‘শাহ আবদুল করিমের গান কেবল সংগীত নয় — এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার কেবল অবৈধ নয়, বরং চরম অসম্মানজনক। আমরা তার উত্তরাধিকার রক্ষায় আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই গ্রহণ করব।’


শেয়ার করুনঃ

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে আরো পড়ুন

শাহ অব্দুল করিম, গ্রামীণফোন, গান, বাউল, ক্ষতিপূরণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ