২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেববাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের দিন শুরু হয় ময়লার দুর্গন্ধ দিয়ে, শেষও হয় ময়লার দুর্গন্ধ দিয়ে। টানা ২৫ বছর ধরে এভাবেই অতিষ্ঠ হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। খালের জায়গা দখল করে সেখানে ময়লা ফেলার কারণে এ ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালের উপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এখন পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক মানুষ। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আত্মীয়-স্বজনও বেড়াতে আসতে চান না। এমনকি বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানও প্রভাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুবল দেব বলেন, বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এলাকার অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশুদের কষ্ট বেশি।
একই অভিযোগ তুলে আব্দুল গনি বলেন, এলাকায় আত্মীয়-স্বজন আসতেও চান না। কেউ বিয়ের সম্পর্কও করতে চান না।
নির্মল দেব বলেন, প্রথমে আমাদের বলা হয়েছিল সাময়িকভাবে ময়লা রাখা হবে, পরে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু এখন ময়লা জমে পাহাড় হয়ে গেছে। বর্ষায় মাছি ঘরে ঢুকে পড়ে। দুর্গন্ধে রাতে ঘুমানো যায় না।
বাসিন্দাদের দাবি, জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো সমাধান হয়নি। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতির আর খোঁজ মেলেনি।
এ নিয়ে স্থানীয় বাবুল দাস বলেন, ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা না করে খালে ময়লা ফেলা হয়েছে। আগে খাল দখলমুক্ত করলে পানি নিষ্কাশন হতো, রাস্তা খারাপ হতো না। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী বলেন, ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল আহমেদ বলেন, ময়লাগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। খাল দখলমুক্ত করা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জগন্নাথপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, সরকারি খাল দখলের অভিযোগ পেয়েছি। সার্ভেয়ারকে দখলদার চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট এলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ভোগান্তি