অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ যায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ৪:০০ অপরাহ্ন
গ্রীসে খুন হওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার রনসী গ্রামের প্রবাসী রাজা হোসেনের (২৮) মরদেহ প্রায় ২১ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রীস থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে মরদেহ পৌঁছায় শান্তিগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসী গ্রামে।
মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা, স্বজনরা। গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো রাজাকে দেখতে ভিড় জমান এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে রাজাকে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
পরিবার জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে ধারদেনা করে ২০ লাখ টাকা খরচ করে স্বপ্ন পূরণের আশায় রাজাকে গ্রীসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় সহকর্মীদের আক্রোশের কারণে। ফোরম্যান পদে উন্নীত হওয়ায় ঈর্ষান্বিত সহকর্মীরা তাঁকে খুন করে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
রাজার মা নিবারুন নেছা ও বাবা আব্দুল কাদির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাজা ছিল আমাদের পরিবারের মূল ভরসা। আমরা ধারদেনা করে তাকে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে সহকর্মীরা হিংসা করে তাকে হত্যা করেছে। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই।’
স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্ব লুৎফুর রহমান বলেন, ‘রাজা ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঈর্ষান্বিত সহকর্মীদের হাতে খুন হতে হলো তাকে। আমরা সুবিচার চাই। যেন অন্তত তাঁর মা-বাবা সান্ত্বনা পান।’
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম আলী বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু গ্রীসে ঘটেছে, মামলা ও তদন্ত সেখানেই হবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে আইনগত সহযোগিতা দেওয়া হবে।’