২১ মে ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

২ আগস্ট: রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নগরীর একাংশ, হবিগঞ্জে নিহত যুবক

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৪২ পূর্বাহ্ন


২ আগস্ট, ২০২৪ কিংবা ৩৩ জুলাই। সেদিন ছিল শুক্রবার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল গণমিছিল।

জুমার নামাজের পর থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক শহীদ রুদ্র তোরণের সামনে ধীরে ধীরে শুরু হয় জমায়েত। শুধু ছাত্র নয়, মিছিলে অংশ নিতে আছেন সাধারণ মানুষও।

বেলা ৩টার দিকে মিছিল প্রস্তুত হলে পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়। পুলিশী বাঁধা অতিক্রম করে মিছিলটি মদিনা মার্কেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ ছাত্রদের উপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুঁড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তারপরও দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, বাগবাড়িসহ আশেপাশের সকল এলাকায়। মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে প্রকম্পিত হতে থাকে নগরী।

এর মধ্যে আখালিয়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় ১২ বছর বয়সী একটি শিশু শফিক আলী। নিজেদের গুলিতে পুলিশ সদস্যরাও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। শটগানের ছড়রা গুলি গেলে আহত হন কয়েকজন সাংবাদিকও।

সেদিন কতজন ছাত্র-জনতা আহত হয়েছিলেন তা আর নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আতঙ্কে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি অজস্র আহত। কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের বাড়িঘরেই চলে আহতদের চিকিৎসা।

এইদিন প্রথমবারের মতো সিলেটবাসী টের পায় পুলিশী নৃশংসতার ব্যাপকতা। সেদিন আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি এলাকার অজস্র বাড়িঘর হয়ে উঠে আন্দোলনকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সাধারণ মানুষও একাত্ম হন আন্দোলনের সাথে।

এদিন হবিগঞ্জেও আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায় পুলিশ-ছাত্রলীগ। নিহত হন একজন। সেদিন জুমার নামাজের পর বোর্ড মসজিদের সামনে গণমিছিলের প্রস্তুত নেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। পাল্টা পূর্ব টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

মিছিল বের করলে বেলা ৩টার দিকে টাউন হল এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষ। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসায়ও হামলা চালায়।

পরে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের উপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়লে অর্ধশতাধিকের বেশি মানুষ আহত হন এবং মুস্তাক আহমদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষণা দেয় পরবর্তী দুইদিনের কর্মসূচি। সারাদেশে সংঘটিত হত্যার প্রতিবাদ, বিচার ও শেখ হাসিনার ক্ষমা প্রার্থনাসহ ৯ দফা দাবি ৩ আগস্ট সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ঘোষণা দেন সমন্বয়কেরা।

এর আগে ১ আগস্ট আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদার ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। 

মুক্তির পাওয়ার পর তারা এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেন।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

জুলাই অভ্যুত্থান, শাবিপ্রবি, গণমিছিল, কোটা আন্দোলন, ছাত্রলীগ, পুলিশ, হামলা, গুলি, নিহত, হবিগঞ্জ, সিলেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ