তাহিরপুর মুক্ত দিবস আজ
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১ আগস্ট, ২০২৫ ৪:৫২ অপরাহ্ন
কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসের ১ তারিখ যে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-নিপীড়নে তা পরিণত হয়েছিলো এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে– বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন কালো অধ্যায়ে।
আর তাই জুলাই মাসের ৩১ তারিখ শেষে ক্যালেন্ডারে ১ আগস্ট শুরু হলেও স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ে দিনটি ৩২ জুলাই হিসেবে আখ্যায়িত থেকে যায়।
৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় পরদিনের জন্য ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
আগের রাতে শাবিপ্রবি ও তার আশেপাশের এলাকায় পুলিশের ব্লকরেইড অব্যাহত থাকে। এ সময় নেহারীপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় শাবিপ্রবির তিন শিক্ষার্থীকে। তবে পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক জালালাবাদ থানায় গিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীদের।
সেদিন বিকেল ৩টার আগে থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালনের জন্য সমবেত হতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন, এবং একজন শিক্ষার্থীকে আটক করেন।
পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন তপোবন থেকে শুরু করে সুরমা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত প্রধান সড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সুদীর্ঘ এ বন্ধনে শুধু শাবিপ্রবি নয়, বীরদের স্মরণে যোগ দেন সিলেটের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ কর্মসূচি।
সেদিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শাবিপ্রবির অন্যতম সমন্বয়ক ফয়সল হোসেন বলেন, ‘আমার পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে করতে গেলে পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ-ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে আমরা সুরমা আবাসিক এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে আমাদের কর্মসূচি পালন করেছি।’
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে অবস্থান করেন শিক্ষকদের একাংশ।
এদিন বিকেলে ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ ও এর ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্র শিবির’কে সন্ত্রাসী সত্তা ঘোষণা করে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান, ফিরে দেখা, ১ আগস্ট, ৩২ জুলাই