সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় হাওরের কৃষক
কৃষি
প্রকাশঃ ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি বাসার ছাদে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম এক ছাদ বাগান। নার্সারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক বিউটি রানী শীল শখের বসে নিজের বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন এই বাগান। এখন তা শুধু শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের কাছে আগ্রহ ও অনুপ্রেরণার উৎস।
স্কুল ও সংসারের কাজ সামলে প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিজের গড়া ছাদ বাগানে সময় দেন বিউটি রানী। তার এই কাজে প্রতিদিন সহযোগিতা করছেন তার দুই মেয়ে—একজন জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অন্বেষা মজুমদার এবং অন্যজন জগন্নাথপুর নার্সারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরৈধী মজুমদার।
ছাদ বাগানে রয়েছে মরিচ, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শাক, লেবু, কমলা, মাল্টা, সজিনা, আম, লিচু, আমড়া সহ নানান প্রকারের সবজি ও ফলগাছ। এ ছাড়া আছে প্রায় ১৫ রকম ফুলের গাছ, যা নিয়মিত পূজার ফুলের চাহিদাও মেটায়।
ছাদ বাগান দেখতে অনেকেই আসছেন। বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী, গৃহিণী ও স্থানীয় কৃষকরা ছুটে আসছেন বাগানটি দেখার জন্য। অনেকেই ছবি তুলছেন, কেউ কেউ অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের ছাদেও বাগান করতে শুরু করেছেন।
বিউটি রানী শীল বলেন, “স্কুল শেষে সময় পেলে আমি ছাদে চলে আসি। স্বামী এবং মেয়েরা নিয়মিত সহযোগিতা করে। খুব বেশি খরচ হয় না, তবে গাছের যত্ন নিতে হয় নিয়মিত। ছাদে বসেই আমরা পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি, ফুল ও কিছু ফলও পেয়ে যাই।”
তিনি আরও জানান, গাছের রোগবালাই বা পোকার সমস্যা হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।
তার বড় মেয়ে অন্বেষা মজুমদার বলেন, “মা আমাদের গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আমরা স্কুল শেষে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাই গাছের পরিচর্যায়। গাছ সম্পর্কে অনেক কিছুই এখন আমরা জানি।”
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, “বিউটি রানী শীল একটি চমৎকার উদাহরণ। তিনি উপজেলা পরিষদের ভেতরের ছাদে নিজ উদ্যোগে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। যদি আরও অনেকেই এভাবে ছাদে চাষ শুরু করেন, তাহলে একদিকে পারিবারিক সবজির চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া যাবে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যেকোনো কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।”
ছাদ বাগান, জগন্নাথপুর, শিক্ষিকা,