১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

২৮ জুলাই: শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে প্রতিবাদ, রাতে আসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ জুলাই, ২০২৫ ৮:১৭ পূর্বাহ্ন


২৮ জুলাই, ২০২৪। দিনভর থমথমে পরিস্থিতি ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার মধ্যে গ্রাফিতি অংকণ কর্মসূচি পালনের পর রাতে আসে কোটা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর কার্যালয় থেকে আসা এ ঘোষণায় সৃষ্টি হয় আরো বেশি অনিশ্চয়তা।


সেদিন ছিল রবিবার। আগেরদিন রাতে ভার্চুয়ালি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের দেয়ালে গ্রাফিতি অংকণ করেন শিক্ষার্থীরা।


শহীদ আবু সাঈদ স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লেখা হয়– ‘হামার বেটাক মারলু কেন? বিচার চাই, বিচার চাই’। আঁকা হয় আবু সাঈদের প্রতিকৃতি–লেখা হয় ‘রক্ত দেখলে বাড়ছে সাহস’।


আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যদি পাকিস্তানের মিলিটারিদের বর্বরতা ও গুলিকে ভয় পাইতো তাহলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হত না, উর্দুই থাকতো আমাদের রাষ্ট্রভাষা। তাই শিক্ষার্থীদের ওপর যতই অত্যাচার, গুম, খুন করা হোক না কেন, নায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। এতে সারাদেশে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর চলমান বর্বরতার প্রতিবাদে আমরা গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করছি।


এদিকে রাজধানীতে তখন অন্য চিত্র। একদিকে চলছে আন্দোলন, অন্যদিতে সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আগেই একদফা পুলিশী নির্যাতনের পর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিলো। সেখান থেকে ২৬ জুলাই শুক্রবার আবারও তুলে নেয় পুলিশ। একই দিনে আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকেরকেও নিয়ে যাওয়া হয় গোয়েন্দা হেফাজতে।


এরপর শনিবার সন্ধ্যায় আরও দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে হেফাজতে নেয় ডিবি। রোববার ভোরে আরেক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় ডিবি। সেদিন রাতে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন এই ছয় সমন্বয়ক।


সে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের প্রধান দাবি কোটার যৌক্তিক সংস্কার, যা সরকার ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে এই মূহুর্ত থেকে আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।’


পরে ১ আগস্ট পরিবারের জিম্মায় তাদেরকে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তারপরে এক ঘোষণায় সমন্বয়করা জানিয়েছিলেন যে তাদেরকে জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করে মিডিয়ায় ছড়ানো হয় যে তারা ভালো আছেন। মূলত তাদেরকে আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করে জোরপূর্বক আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়ানো হয়।


তারা জানান, বিচারবহির্ভুতভাবে আটক থাকার পর আদালতে হাজির না করে আটকে রাখা, মারধর করে-অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়ানোর প্রতিবাদে ৩০ জুলাই থেকে তারা অনশন কর্মসূচি শুরু করলে ডিবি বাধ্য হয় তাদের ছেড়ে দিতে।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, জুলাই অভ্যুত্থান, ফিরে দেখা, শাবিপ্রবি, ২৮ জুলাই ২০২৪, গ্রাফিতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ