১৫ জুন ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

২৬ জুলাই: শাবিপ্রবির প্রধান ফটক হলো ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৬ জুলাই, ২০২৫ ২:০১ অপরাহ্ন


২৬ জুলাই, ২০২৫। শুক্রবার। বেলা আড়াইটায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের সহযোদ্ধা নিহত শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামকরণ করেন ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’। দুপুরে ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রধান ফটকে ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’ লেখাসংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দেন। 

 

রুদ্র সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৮ জুলাই পুলিশের ধাওয়ায় খাল পাড় হতে গিয়ে পানি ডুবে নিহত হন তিনি।


শহীদ রুদ্র তোরণ নাম ঘোষণার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবি সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, ১৮ জুলাই দুপুরে রুদ্র সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে প্রথমবার আহত হন রুদ্র। 


তিনি জানান, বেলা তিনটার দিকে সুরমা এলাকায় পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলার শিকার হন শিক্ষার্থীরা। আহত রুদ্র সন্ধ্যায় রুদ্রকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় তৃতীয়বারের মতো পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে থাকে। এ সময় জীবন বাঁচাতে খাল পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয় রুদ্রর।


তোরণ নামকরণের প্রেক্ষাপটে আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে রুদ্র সেন শহীদ হয়েছেন। আমরা তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামকরণ করেছি। কাগজের এই লেখা কেউ ছিঁড়ে ফেললে আমরা আবারও রক্ত দিয়ে লিখে রেখে আসব একই নাম।’ 


সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের নামকরণ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় তাদের দাবির সপক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেন।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুরুর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় গেটের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে পুলিশ অবস্থান নিয়ে ছিল। প্রায় ৩০ মিনিট কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


এদিন দেশব্যাপী কারফিউ আরো শিথিল করা হয়। এদিনই কোটা আন্দোলনের অন্যতম তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। সারাদেশে শুরু হয় ব্লক রেইড। পুলিশ জানায়, দেশব্যাপী ৫৫৫টি মামলা হয়েছে এবং ৬২৬৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, শাবিপ্রবি, জুলাই অভ্যুত্থান, রুদ্র সেন, শহীদ রুদ্র তোরণ,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ