হবিগঞ্জে মির্জা ফখরুল
মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৫ ১১:২২ পূর্বাহ্ন
কোটাবিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ ছড়ানো ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। দিনটি সিলেটের ইতিহাসের এক অনন্য দিন হয়ে রইলো তীব্র আন্দোলন ও পুলিশের গুলিতে এক সাংবাদিকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
দিনের সূচনা হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, যখন আগের রাতে নিহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপাচার্য বিকল্প পথে পালিয়ে যান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা কিছু সময় শিক্ষার্থীদের রোষানলে আটকে থাকেন।
দুপুরে জুমার নামাজের পর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই কর্মসূচি শুরুর সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকরাও।
মিছিলটি পুলিশ ভ্যান অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হতেই পিছন থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। তখন রাস্তার মাঝের আইল্যান্ডের উপরে আলোকচিত্র ধারণ করছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব।
গায়ে প্রেস লেখা ভেস্ট থাকার পরও তার উপরে গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর আহত হন তুরাব। দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেদিন সন্ধ্যায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার শরীরে ছিল ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন।
সেদিন জুমার পর থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে থাকলে আখালিয়া থেকে পাঠানটুলা এলাকা পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। সাধারণ ছাত্রদের সাথে যুক্ত হন নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।
বিকাল ৪টা থেকে বাড়তে থাকে সংঘর্ষের তীব্রতা। রাত ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে সংঘর্ষ। আহত হন অজস্র ছাত্র-জনতা। একদিকে বন্ধ ইন্টারনেট, অপরদিকে ধারাবাহিক গুলি-গ্রেনেডের শব্দ– নগরী জুড়ে তখন আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
রাত ১১টার দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি এবং সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। এর কিছু সময় পরই সিলেটে শুরু হয় টানা বৃষ্টি, যার ফলে পরিস্থিতির উত্তাপ কিছুটা কমে আসে।
দিনটির একবছরের মাথায় ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি) এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই) প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে ১৯ জুলাই একদিনে সারাদেশে অন্তত ১৪৮ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে আন্দোলন দমনের নামে।
দিনশেষে এই দিনটি পরিণত হয় সহিংসতার এক কালো অধ্যায়ে—যেখানে হারিয়ে যায় সিলেটের সাংবাদিক আবু তাহের মো. তুরাবসহ অজস্র প্রাণ।
সিলেট, কোটাবিরোধী আন্দোলন, জুলাই অভ্যুত্থান, সাংবাদিক মৃত্যু, সাংবাদিক আবু তুরাব,