সুনামগঞ্জে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে দেয়া হবে হাম-রুবেলার টিকা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ১৭ জুলাই, ২০২৫ ৩:২৭ অপরাহ্ন
এক মাস কিংবা দুই মাস নয়, টানা এক বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা এবং সব সুবিধা ভোগ করছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের আউদত কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) ফারহানা বেগম।
অভিযোগ রয়েছে, অসুস্থতার অজুহাতে তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন নিয়মিত। রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে দিনের পর দিন ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
সূত্র জানায়, ফারহানা বেগম ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর চাকরিতে যোগদানের পর থেকে দীর্ঘদিন অনিয়মিত। ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি ক্লিনিকে সেবাদানে অনুপস্থিত ছিলেন।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার অনুপস্থিতি নিয়ে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে তদবির করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসাররা পরিদর্শনে গিয়ে ফারহানা বেগমকে ক্লিনিকে অনুপস্থিত পান। পরিদর্শন শেষে অনুপস্থিতি, অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে তাকে শোকজ করা হয়। তবে শোকজের পরও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।
বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকের দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কেউ নেই। সিএইচসিপি ফারহানা বেগম ও পরিবার কল্যাণ সহকারী সুলতানা বেগম—দুজনেই অনুপস্থিত।
ক্লিনিকের সামনে বসে থাকা কয়েকজন রোগী বলেন, ‘ফারহানা ম্যাডাম এক বছর ধইরা নাই। একজন পুরুষ আসে কয়দিন ধইরা, সে এখন চা খাইতে গেছন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকসংলগ্ন এক দোকানদার বলেন, ‘সরকারি চাকরি করেন, কিন্তু গত এক বছর ধইরাই নাই। বেতন-ভাতা তো পাইতেছেন নিয়মিতই। ওনার জন্যই এলাকার মানুষ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারহানাকে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ শোকজের তারিখ কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেনি।
জানা গেছে, ফারহানা বেগম জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাড়পাড়া ইউনিয়নের আফজল গ্রামের আবদুল আজাদের মেয়ে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ চন্দ্র রায় বলেন, 'ফারহানাকে অনুপস্থিতির কারণে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তিনি যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।'
তবে এতদিন তিনি কেন অফিস করেননি জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, 'সে অসুস্থ ছিল।'
সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, 'বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। তবে যদি তিনি সত্যি অসুস্থ হন, তাহলে তার মেডিকেল ছুটি থাকতে হবে। কোনো ডকুমেন্ট না থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, অনিয়ম, স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক