রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১৭ জুলাই, ২০২৫ ১:২৯ অপরাহ্ন
১৭ জুলাই, ২০২৪ —কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তাল দেশের রাজপথ। রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকার রক্তাক্ত ঘটনার রেশ পৌঁছেছে সিলেটেও।
আন্দোলনের এদিনে সিলেটে ছিল ঘটনাবহুল এক দিন। এদিন দুপুর থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ে মানুষ। দুপুরের পর থেকে মোবাইলে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার ব্যাহত হতে থাকে।
সিলেটে রাজপথে এদিন ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গায়েবানা জানাজায় বাধা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগবিরোধী অবস্থান এবং অস্ত্র-মাদকের মজুত ফাঁস সব মিলিয়ে এই দিনটি ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৬ জুলাই রংপুর ও চট্টগ্রামে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বিএনপি। সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে দুপুর আড়াইটার দিকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সমমনা দল’-এর ব্যানারে জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে পুলিশের বাধায় তা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়নি। পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের তর্ক-বিতর্কের পর জানাজা স্থানান্তর করা হয় নগরীর কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে।
একই দিন বেলা পৌনে দুইটার দিকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, মহাজনপট্টি ও হকার্স মার্কেট এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। পুলিশের ব্যারিকেডে পৌঁছালে ইটপাটকেল ছোড়ে তারা। পরে পুলিশ টিয়ার সেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
একই দিন দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে প্রতীকি কফিন মিছিল বের করে, তাতে সংহতি জানায় লিডিং ইউনিভার্সিটি, নর্থ-ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং, হবিগঞ্জ সরকারি কলেজ, এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ, মেজরটিলা স্কলারস হোম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। বিকেল ৩টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তা মানেননি। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘আমরা ইউজিসির নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করছি। হল ছাড়ার জন্য চাপ দিলে প্রশাসনকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব।’
১৭ জুলাই সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শাহপরাণ হলে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও মদের বোতল উদ্ধার করেন আন্দোলনকারীরা। পরে সাড়ে ৬টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসবের বিবরণ তুলে ধরেন গালিব। তিনি জানান, 'হলের কয়েকটি কক্ষ থেকে শর্টগান, রিভলবার, রামদা, স্টিলের পাইপ, মদের বোতল ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, ‘শাবিপ্রবিকে আজ থেকে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করছি। যারা হলে মাদকের আসর বসাতো, আমরা তাদের প্রতিহত করব।’ উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিন বিকেলে হল ত্যাগ করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শাবি শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, তল্লাশির খবর পেয়ে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
১৭ জুলাই রাতে শাবি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এর আগে নিজের ওয়েবসাইটে আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করে তিনি লেখেন‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ছাত্রদের দেখলেই মনে হয়, এরাই হয়তো সেই রাজাকার। আর আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না।’
এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, এমন মন্তব্য একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বজ্ঞানহীন। তার লেখা ও অবস্থানের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
সিলেট, কোটা আন্দোলন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, পুলিশ, হামলা, জুলাই অভ্যুত্থান