২০ এপ্রিল ২০২৬

যাপিতজীবন / স্বাস্থ্য

জগন্নাথপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, বন্ধ স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন

গোবিন্দ দেব, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের তীব্র সংকট থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে। কেবল ঔষধ সংকটই শেষ নয়, বেশ কয়েকজন হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন-ভাতাও দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে রয়েছেন কর্মীরাও। 

জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। পাঁচ মাস ধরে এসব ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, মেট্রোনিডাজল ও সাধারণ জ্বর-সর্দি-ডায়রিয়ার ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে চিকিৎসা নিতে যান কয়েকজন রোগী। তারা অভিযোগ করেন, অনেকদিন ধরেই সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে না। বৃদ্ধা ফুলতেরা বেগম বলেন, 'ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। তাই খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।' 

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার লিংকন মিয়া বলেন, 'শুরুতে ৩২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ হতো। পরে তা কমে দাঁড়ায় ২২টিতে। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে একটি ওষুধও আসেনি।'

পাটলী ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবার কল্যাণ সহকারী মিনা রানী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো ওষুধ সরবরাহ হয়নি। রোগীরা ওষুধের জন্য ক্লিনিকে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও গালমন্দ করেন। এতে অনেক খারাপ লাগে তাঁদের। 

ক্লিনিক পরিচালনায় জড়িত অনেকেই অভিযোগ করেন, একদিকে ওষুধ নেই, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেতনও বন্ধ। মজিদপুর ইউনিয়নের সিএইচসিসি মিরা নারী দেব বলেন, 'আমরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। এক বক্স করে ওষুধ দেওয়া হয়, সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প।' 

গোপরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের মুহিবুর রহমান বলেন, 'অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজল ও পেনিসিলিন না থাকায় সাধারণ ইনফেকশন বা ডায়রিয়ার মতো রোগেও আমরা রোগীদের কিছু দিতে পারছি না।'

কলকলিয়া ইউনিয়নের সিএইচসিপি পনব দেবনাথ জানান, “পুরাতন সিএইচসিপিরা সাড়ে পাঁচ মাস এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া সিএইচসিপিরা ১৩ মাস ধরে বেতন পান না।”

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রুপক বৈদ্য বলেন, 'ওষুধ সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।'

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, 'নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে, তাই সরবরাহে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।'

তবে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, 'আমি এই সমস্যা প্রথম আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। আমার জানামতে যথেষ্ট ওষুধ মজুদ রয়েছে। কোথাও যদি সংকট থাকে, তাহলে দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ওষুধ সংকট, স্বাস্থ্যসেবা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ