রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৫ ১:০৮ অপরাহ্ন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাপে উত্তাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। গত বছরের এইদিনে রাতভর নানা নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় চত্বর।
এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে শিক্ষার্থীরা নানা আলোচনায় মেতে ওঠেন। রাত ১১টার দিকে হঠাৎ সৈয়দ মুজতবা আলী হল থেকে শুরু হয় ‘তুমি কে, আমি কে রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানে গর্জে ওঠা প্রতিবাদ মিছিল। পর্যায়ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু হল, শাহপরাণ হলসহ অন্যান্য আবাসিক হলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুজতবা আলী হল থেকে ছাত্রদের মিছিল বের হলে শাহপরাণ হলে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তা প্রতিরোধে নামে। এসময় স্লোগান দেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে চলে যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে জোর করে স্লোগান না দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার ১৫ মিনিট পর প্রধান ফটক থেকে আগত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রীদের হলের সামনে গিয়ে স্লোগান দিলে শতাধিক ছাত্রী মধ্যরাতে হল থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলে নারী শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও দৃঢ় করে তোলে।
একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও মিছিলকারীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে সমবেত হয়। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তিনজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে রক্তাক্ত করে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এর পরপরই আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগের বাধা ভেঙে এগিয়ে যায় এবং ‘ভাই তুমি বেরিয়ে পড়ো, নিজ অধিকার আদায় করো’—এই স্লোগান দিয়ে ছাত্রদের হল থেকে মিছিলে আহ্বান জানাতে থাকে। ছাত্রী হল থেকেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেখে সাহস পায় বাকি আন্দোলনকারীরা।
চোখে মুখে ভয় নয়, ছিল দৃঢ় প্রত্যয়—এমনই দৃশ্যপট ছিল শাবি ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গত এক দশকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এমন সম্মিলিত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘটনা নজিরবিহীন।
পরদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এর আগে ১৪ জুলাই দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাষ্ট্রপতির বরাবর স্মারকলিপি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে সরকারি চাকরিতে ৯৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
শাবিপ্রবি, ১৪ জুলাই, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আন্দোলন