জাফলংয়ের কূপ থেকে দেশীয় পিস্তলসহ আটক তিনজন
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৩ জুলাই, ২০২৫ ৩:০৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আবু সাঈদের (৩১) নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ৭ কর্মকর্তার কাছে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নিহত আবু সাঈদের বাড়ি দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামে।
নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেট সেনানিবাসের জিওসি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দিরাই ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
নোটিশে বলা হয়, গত ২২ জুন দিরাই উপজেলার গাদিয়ালা গ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার সঙ্গে ছিলেন চাচাতো ভাই আকবর আলী। নিহত আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
শিশির মনির বলেন, 'একজন সাধারণ পেশাজীবী মানুষ কীভাবে যৌথবাহিনীর অভিযানে মারা গেলেন, তা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। নিহতের লাশ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলেও পরিবারকে জানানো হয়নি, ঘটনাস্থল গোপন রাখা হয় এবং ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি হয়নি।'
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনী ও যৌথবাহিনী জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাই এই ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন আবশ্যক। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৩ জুন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যৌথবাহিনীর গুলিবিনিময়ের সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবু সাঈদ মারা যান। ঘটনার পর চারজনকে আটক করা হয়, যাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আবু সাঈদ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
আবু সাঈদ, গুলিবিদ্ধ, সুনামগঞ্জ, সেনাবাহিনী, যৌথবাহিনীর