সুনামগঞ্জে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে দেয়া হবে হাম-রুবেলার টিকা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২৬ জুন, ২০২৫ ১০:০৮ অপরাহ্ন
সিলেটজুড়ে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস, যা সাধারণভাবে খোসপাঁচড়া নামে পরিচিত। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীরা। বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও।
গত আড়াই মাসে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে স্ক্যাবিসের চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ হাজার ৩৫৫ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর ভিড়। বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালেও একই অবস্থা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুধু এপ্রিল মাসেই স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ২৭১ জন। মে মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৫০-এ। জুন মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ ছিল ১০ দিন।
চিকিৎসকদের মতে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, ঘনবসতি এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব—এসবই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বারবার বন্যা হয়, সেসব অঞ্চলে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্ত্তী বলেন, 'চর্মরোগের মধ্যে স্ক্যাবিসই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হলেও চিকিৎসা না নিলে অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।'
তিনি আরও বলেন, 'গরম ও ঘামে এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি।'
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. আব্দুল আহাদ জানান, 'গত কয়েক মাসে আমাদের হাসপাতালে আসা চর্মরোগীদের ৮০ শতাংশই স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। অনেক সময় ডাবল ডোজ দেওয়ার পরেও কিছু রোগী ভালো হচ্ছেন না।'
স্ক্যাবিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ লোশন কিছুদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদর্শন সেন বলেন, “ওষুধের কিছু মজুত থাকলেও লোশনটি নেই। ফলে চিকিৎসায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
জকিগঞ্জের বাসিন্দা মুক্তার আহমদ বলেন, 'ঘরের সবাই খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত। সরকারি হাসপাতালে যে লোশনটি দিত, সেটি এখন মিলছে না। বাইরে থেকে কিনে ব্যবহার করছি।'
তবে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলছেন, 'ওষুধের কিছু ঘাটতি আছে। জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ায় নতুন করে সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। জুলাই থেকে আবার ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দেশে চর্মরোগের মধ্যে স্ক্যাবিস ৬০ শতাংশের মতো। তবে সিলেটে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে—এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই।'
স্ক্যাবিস, চর্মরোগ, সিলেট, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা