সিলেটে তিন খুন: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে আবারও সংবাদ সম্মেলন নিহত দম্পতির সন্তানদের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৩৯ অপরাহ্ন
সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নিজের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড এবং মামলা করার পর হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন মুক্তা আহমদ নামের এক প্রবাসী। তার দাবি, আবাসন প্রকল্পের মাটি কাটা ও ভরাট নিয়ে বিরোধের পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মুক্তা আহমদ। তিনি উপজেলার ধারাবহর, পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে মুক্তা আহমদ বলেন, তার বাড়ির পাশের এলাকায় বাঘা ইউনিয়নের মরহুম নুর উদ্দিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন ‘লেকভিউ গার্ডেন সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প করছেন। প্রকল্পের কাজে এক জায়গা থেকে মাটি কেটে অন্য জায়গায় নিয়ে জমি ভরাট করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা ও ভরাটে বাধা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুক্তা আহমদের অভিযোগ, এসব ঘটনার পর তাদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। শরীফ উদ্দিনের কথিত লোকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং তার ভাই মান্না আহমদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মান্না আহমদ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় আবেদন করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মুক্তা আহমদ বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন আবাসন প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজন শ্রমিককে আটক করে। পরে শরীফ উদ্দিন, ওই তিন শ্রমিক ও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে জানান তিনি।
মুক্তা আহমদের দাবি, পরদিন জামিনে বের হয়ে এসে কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে আবারও গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা আহমদ আরও বলেন, গত ১৭ আগস্ট ভোরে তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। শরীফ উদ্দিন ও ডেভিল আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে তাদের সাত কক্ষের পুরো বাড়ি পুড়ে যায়। এতে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে মুক্তা আহমদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ১৯ আগস্ট সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে সরাসরি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় যান তিনি। তবে বিভিন্ন কারণে তখন মামলা রেকর্ড হয়নি।
পরে ২৪ আগস্ট সিলেটের আদালতের আশ্রয় নিয়ে মামলা রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন বলে জানান মুক্তা আহমদ। আদালতের নির্দেশের পর গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এ কারণে ‘ঘটনার সাত দিন পর মামলা’ এমন প্রচারণা সঠিক নয়।
মুক্তা আহমদ বলেন, মামলার এজাহারে কী রয়েছে এবং তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটি তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের বিষয়।
মুক্তা আহমদ অভিযোগ করেন, মামলার অন্যতম আসামি শরীফ উদ্দিন ও ডেভিল আফজাল হোসেনসহ কয়েকজন বলছেন, তার ভাই মান্না আহমদের ব্যাংক ঋণ ছিল। এ কারণে তিনি নিজেই নিজের ঘরে আগুন দিয়েছেন, এমন বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ধরনের বক্তব্যকে পরিবারের জন্য সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন মুক্তা আহমদ বলেন, ব্যবসা-সংক্রান্ত ব্যাংক ঋণের পরিমাণ আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা।
মুক্তা আহমদ আরও অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর তার ভাই মান্না আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, এজাহারে তার সবকিছু উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দাবি, ঘটনার পর শরীফ উদ্দিন ও ডেভিল আফজাল হোসেনের লোকজন তাদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিলেন এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন।
শরীফ উদ্দিন বা অন্য কারও নাম উল্লেখ করলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হতে পারে, এমন ভয় দেখানোর কারণে তার ভাই তখন অনেক বিষয় প্রকাশ্যে বলতে পারেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে মুক্তা আহমদ বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতে চাই না এবং কারও সম্পদও চাই না। আমাদের একমাত্র দাবি, ১৭ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক।’
গোলাপগঞ্জে বাড়িতে আগুন, প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, গোলাপগঞ্জ, সিলেট, লেকভিউ গার্ডেন সিটি, অগ্নিকাণ্ডের মামলা, হুমকির অভিযোগ, অপপ্রচার