হবিগঞ্জের হারানো বৃদ্ধার ঠিকানা উদ্ধারে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার করলেন পুলিশ
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৬ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের পুলিশ এআই প্রযুক্তির সহায়তায় হবিগঞ্জের নিখোঁজ বৃদ্ধার ঠিকানা উদ্ধার করেছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ভিতরে নিখোঁজ বৃদ্ধার থাকার জায়গা খুঁজে বের করেন তারা।
চট্টগ্রাম চকবাজার থানার এসআই মো. ফিরোজ আলম মুন্সি এই কাজে এআই সহায়তা নিয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট রাতে চকবাজার এলাকায় পথে হাঁটতে থাকা রহিমা খাতুন (৬৫) নাম এক বৃদ্ধাকে একজন পথচারী থানায় নিয়ে আসেন।
বৃদ্ধার কোনো পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর বা পূর্ণ ঠিকানা ছিল না। শুধুমাত্র বলতে পারেন, তার নাম রহিমা এবং বাড়ি 'মিরপুর'। তবে কোন জেলার মিরপুর তা জানেন না।
এসআই ফিরোজ দীর্ঘ কথোপকথনের মাধ্যমে আরও কিছু তথ্য আহরণ করেন। বৃদ্ধা জানান, তার মেয়ের জামাই কুলাউড়ায় থাকেন, বড় ছেলে কদর আলী এবং ছোট ছেলে আরব আলী, মেয়ে রুপবানু। এই তথ্যগুলি নিয়ে এসআই ফিরোজ মনে করেন, বৃদ্ধার বাড়ি সিলেট অঞ্চলের কোথাও হতে পারে।
পরে তিনি চ্যাটজিপিটিতে এই তথ্যগুলি দিয়ে প্রশ্ন রাখেন, কুলাউড়ার সাথে ভৌগোলিকভাবে সম্পর্কিত মিরপুর এলাকা সিলেট অঞ্চলে কোথায় থাকতে পারে। এআই বিশ্লেষণে হবিগঞ্জের বাহুবল থানার মিরপুর এলাকা সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে আসে।
এসআই ফিরোজ সেই তথ্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ না মেনে বাহুবল থানায় যোগাযোগ করেন। বাহুবল থানার এসআই মহসিন রেজা সৌরভ জানান, রহিমা খাতুন নামে একজন নারীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের থানায় জিডি করা আছে।
রহিমার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কামারগাঁও এলাকার ৬ নম্বর মিরপুর ইউনিয়নে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। গত ২২ আগস্ট পরিবারকে না জানিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পাঁচ দিন পর ছেলে কদর আলী থানায় জিডি করেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) তার স্বজনেরা চট্টগ্রাম এসে তাকে শনাক্ত করেন।
চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, সূত্রহীন এমন ঘটনায় এআইর সহায়তায় এত দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। রহিমা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে তারা জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, এ ধরনের অনুসন্ধানে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে এআইর তথ্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ না ধরে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান চালাতে হবে।
বৃদ্ধার ঠিকানা, চ্যাটজিপিটি, পুলিশের এআই ব্যবহার, চট্টগ্রাম চকবাজার থানা, বাহুবল থানা, হারানো রহিমা খাতুন