হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারির ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। তাদের একজনের চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষে আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১/এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে তাফসির চহমেদ নামের এক শিক্ষার্থীর চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। ওই দিনই ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
পরে শনিবার বিকেলে একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।
কলেজের অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৭ম ব্যাচের আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী বহিষ্কার বা শাস্তির আদেশে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পর শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন হতে পারে।
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী বলেন, ‘গত ১৯ আগস্টের মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারি কমিটি সুপারিশ করে এবং একাডেমিক কাউন্সিল সেই সুপারিশ অনুমোদন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চাইলে এক মাসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবে। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়ে থাকলে তার বিষয়টি আদালত নিষ্পত্তি করবে।’
অধ্যক্ষ জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রাবাসে মারামারি, হবিগঞ্জ, মেডিকেল কলেজ, শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, তাফসির চহমেদ, একাডেমিক শাস্তি