তিন মাস পর বাড়ি ফিরে সন্তানের মুখ দেখার আগেই খুন হলেন আল-আমিন
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩২ অপরাহ্ন
তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা আল-আমিন মিয়া (৫০) হাওরের একটি পর্যটকবাহী হাউজবোটে মজুরির ভিত্তিতে শ্রমের কাজ করতেন। প্রায় তিন মাস পর সন্তানদের মুখ দেখবেন এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারালেন তিনি।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন, যাতে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে পরদিন শনিবার দুপুরে আব্দুর নূর, লতিফ, তোফাজ্জল ও তাঁদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ আলআমিনের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। হামলায় রামদার কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে নদীপথে নৌকায় করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তোফাজ্জল ও তাঁর লোকজন সেখানেও বাধা দিয়ে ফের হামলা চালায়। একপর্যায়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আল আমিনের বাড়িতে গেলে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, তিন মাস পর বাড়িতে আইছিল, ছেলে-মেয়ের মুখ দেখার জন্য। কিন্তু তা হইলনা। আমার চারটি ছোট-ছোট সন্তানকে এতিম করে দিয়েছে তোফাজ্জল বাহিনী। নির্মমভাবে কুপিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।
নিহতের ভাই জুয়েল মিয়া বলেন, তোফাজ্জল ও তার সহযোগিরা গ্রামের নতুন ত্রাস ও আতঙ্কের নাম। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে তারা। যেজন্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে খুন করতেও দ্বিধা করছে না।
তিনি আরও জানান, ঘটনার আগের দিন বালিয়াঘাট নতুন বাজারে তোফাজ্জল উচ্চস্বরে বলতে শোনা গেছে, ক্ষমতা এখন আমাদের হাতে, পুলিশ-প্রশাসন আমাদের বাইরে কিছুই বলবে না, আমরা যেভাবে চাই, গ্রামে তাই হবে।
সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। চারটি শিশু সন্তান অল্পবয়সেই তাঁদের বাবাকে হারাল। গ্রামে এমন বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য না। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ঘটনার পর পরই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু করি। পরে এজাহারনামীয় ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।
আল-আমিন হত্যা, তাহিরপুর, বালিয়াঘাট গ্রাম, প্রতিপক্ষের হামলা, মানববন্ধন, ফুটবল খেলা বিবাদ