সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ঘাতক বাবুলকে জেলহাজতে প্রেরণ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন
সিলেট নগরীর রায়নগরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মরদেহ দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন তাঁদের দুই মেয়ে। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে পৌঁছেই তাঁরা ছুটে যান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে বাবা-মায়ের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই মেয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তাঁরা সরাসরি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। সেখানে বাবা মায়ের মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন দুই মেয়ে। স্বজনদেরও এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার নয়াসড়ক এলাকার হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনায় নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের চার সন্তানই প্রবাসে থাকেন। তাঁদের দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ছেলে আরিফ ইফতেখার শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার একটি বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে আটক করা হয়।
গতকাল সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে একটি কক্ষে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।
পুলিশের দাবি, তাহমিনার চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্ত্রীর চিৎকার শুনে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও আক্রমণ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাসার বারান্দা দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ঘটনাস্থলের কাছের একটি ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল তিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রায়নগর হত্যাকাণ্ড, আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম, গৃহকর্মী তাহমিনা, মরদেহ হস্তান্তর, কান্না