রায়নগর হত্যাকাণ্ড: ঈদের পরই কাজে এসেছিল তাহমিনা, ফিরতে হচ্ছে লাশ হয়ে
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২:৫৪ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘ঠান্ডা মাথার’ হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান এবং মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তার মতে, হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে দুর্বৃত্তরা ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল।
বুধবার রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েস লোদী এসব কথা বলেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাশের সঙ্গে রক্ত বাইরে বেরিয়ে আসার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল। তিনি জানান, এমন নৃশংসভাবে একজন প্রবীণ মানুষকে হত্যা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
কয়েস লোদী বলেন, ‘এরা আসলে মানুষ না, অমানুষ। একজন মানুষ এভাবে ৮০ ঊর্ধ্ব একজন মানুষকে নিঃসংসভাবে হত্যা করতে পারে না। এরা মানুষরূপী পশু।’
হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে, এটি ‘ঠান্ডা মাথার’ একটি হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পনা করেই হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় প্রবেশ করেছিল বলে তার ধারণা।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েস লোদী বলেন, এ ঘটনায় রাজনীতি টেনে আনা ঠিক হবে না। তার মতে, একজন প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে ছিলেন। তাকে যেভাবে বাসার ভেতরে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকার কথা নয়।
তিনি বলেন, ‘ভাই, আপনি এসব বিষয়ে রাজনীতি কীভাবে আনবেন? আপনি বলেন, এগুলো একটা ফালতু কথা। একজন ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধ মানুষ, অসুস্থ অবস্থায় জীবনের শেষ সময়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাকে যেভাবে ঘরে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে, এখানে রাজনীতির কী থাকতে পারে?’
এদিকে এই ঘটনাকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবেও দেখতে চান না কয়েস লোদী। তিনি বলেন, এটি একটি নির্দিষ্ট বাসার ভেতরে সংঘটিত ঘটনা এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
তিনি জানান, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বলেছি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে এম এ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি দলিলও পুলিশের নজরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট রায়নগর হত্যাকাণ্ড, রায়নগরে তিন খুন, সিলেট ট্রিপল মার্ডার, কয়েস লোদী, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিউক চেয়ারম্যান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ