রায়নগর হত্যাকাণ্ড: ঈদের পরই কাজে এসেছিল তাহমিনা, ফিরতে হচ্ছে লাশ হয়ে
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি জানান, নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, সিলেটের মদনমোহন কলেজের সামনে তাদের একটি সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে একটি সম্ভাব্য সূত্র হতে পারে।
বুধবার রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। পরে নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, কোনো হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি উদ্দেশ্য বা ‘মোটিভ’ থাকে। রায়নগরের এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও সেই মোটিভ খুঁজে বের করা জরুরি। তার ধারণা, ঘটনাটি শুধু টাকা-পয়সা বা সাধারণ চুরির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই বাসায় সম্প্রতি রঙের কাজ চলছিল। ফলে সেখানে বাইরের লোকজনের যাতায়াত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে। এর পাশাপাশি নিহত পরিবারের মদনমোহন কলেজের সামনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্পত্তির কারণে বিষয়টি হয়ে থাকতে পারে। আমি যেটুকু তাদের পরিবারের কাছ থেকে শুনতে ও জানতে পেরেছি, মদনমোহন কলেজের সামনে একটি সম্পত্তি আছে। ওই সম্পত্তি নিয়ে কিছুটা বিরোধ আছে।’
তবে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের কারণ এমন কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে এম এ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি দলিলও পুলিশের নজরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট রায়নগর হত্যাকাণ্ড, রায়নগরে তিন খুন, সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, রায়নগর হত্যার মোটিভ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ