০৪ আগস্ট ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

৪ আগস্ট: গোলাপগঞ্জে ঘটে সাতজনের প্রাণহানি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভিত নড়ে আ.লীগ সরকারের

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৪ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৫১ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

১৯৯০-এর স্বৈরাচার পতনের পর দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথপরিক্রমায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। দেশব্যাপী তীব্র অসহযোগ আন্দোলনের মুখে এদিন নড়ে যায় তৎকালীন সরকারের ভিত।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শুরু হওয়া কোটাসংস্কার আন্দোলন সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে রূপ নেয় সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে। এই একদফা দাবিতে ৪ আগস্ট সকাল থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন।


দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিলেট নগরীতেও শুরু হয় বিক্ষোভ। সকাল ১১টার মধ্যেই নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় জড়ো হন অসংখ্য শিক্ষার্থী, শুরু করেন স্লোগান। এ সময় পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং এতে যোগ দেয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ ওঠে। 


বিক্ষোভরত ছাত্রজনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে বন্দরবাজার পয়েন্টের দখল নেয় আওয়ামী লীগ। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র ছাড়াও ভারি আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করছিলো। তখন বন্দরবাজারের আশেপাশের এলাকায় থেমে থেমে শুরু হয় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত। প্রায় দিনব্যাপী চলে এসকল সংঘর্ষ, ছড়িয়ে পড়ে নগরীর সকল এলাকায়।


এদিকে দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সৃষ্টি করে আরেক ইতিহাস। সিলেট সংলগ্ন এই উপজেলায় হাজারো ছাত্রজনতা চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সড়কে। তাদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ ও বিজিবি। সেদিনই জানা যায় যে উপজেলার দুটি ঘটনাস্থলে অন্তত ৫ জন মারা গেছেন। 


দিন গড়াতে এই উপজেলায় শহীদের সংখ্যা পৌঁছায় ৭ জনে। যাদের বেশিরভাগই শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ যারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে নেমে আসেন রাস্তায়, গড়ে তোলে প্রতিরোধ।


সিলেটে যখন এই অবস্থা, তখন রাজধানীতে রীতিমতো রক্তগঙ্গা বইয়েছে পুলিশ-র‌্যাব। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় তখন বিক্ষোভরত ছাত্রজনতার উপরে নির্বিচারে গুলি চলছে। কয়েক শত ছাত্রজনতা সেদিন শহীদ হন, হাজারো গুলিবিদ্ধ-আহত। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ গোটা দেশই তখন রণভূমি।


এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ৬ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির কথা বললেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৫ আগস্টই মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। শেখ হাসিনা সরকার সেদিন দেশব্যাপী অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। কিন্তু ততক্ষণে টের পাওয়া যায় যে পরদিন দেশের জন্য অপেক্ষা করে আছে অন্য কিছু।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

৪ আগস্ট, গোলাপগঞ্জ, প্রাণহানি, আ. লীগ সরকার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ