১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৫ জুন, ২০২৫ ৮:৪৬ অপরাহ্ন
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেছেন, 'সারা সিলেট শহরে প্রতিদিন ৪৭৫ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে সংগ্রহ করা হয় মাত্র ২৪৫ টন। বাকি বর্জ্যের একটি বড় অংশ চলে যায় ভাঙারির দোকানে, আর একটি বড় অংশ ছড়া বা ড্রেনে চলে যায় সেই সঙ্গে প্লাস্টিকও।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩জুন) ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ ও বাংদেশের প্রথম হাইপারলোকাল গণমাধ্যম ‘সিলেট ভয়েসর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্লাস্টিক দূষণ ও নগর সিলেট শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সিসিক প্রথমবারের মতো একটি নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে, যে নীতিমালার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে একটি প্রবাহের মধ্যে আনা হবে। এই নীতিমালায় কীভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে, কোন এলাকায় কত টাকা ধার্য করা হবে, টাকাটা কে নেবে, কীভাবে নেবে, এবং সিটি করপোরেশন কোনো রাজস্ব পাবে কি না এসব বিষয় উটে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।
মোহাম্মদ একলিম বলেন, অনেক পানি বোতল পুনঃব্যবহার হয়, যার একটি অর্থনৈতিক মূল্য আছে। আমাদের একটি MRF (Material Recovery Facility) প্লান্ট আছে, যা লাফার্জ হোলসিম এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হয়েছে। এটি খুব ভালো কাজ করছে। বর্তমানে আমরা প্রতিদিন প্রায় ১২০–১৫০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করি এবং এখান থেকে ৩৫–৪০ টন মূল্যবান প্লাস্টিক সংগ্রহ করি। এগুলো লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারা সেগুলো চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেলে।'
তিনি বলেন, 'আমরা যদি এটাকে ৩০০ বা ৪০০ টনে উন্নীত করতে পারি, তাহলে আরও ভালো হবে। তবে আমাদের সিলেটের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং যেসব বর্জ্য পাওয়া যায়, সেগুলো খুবই স্যাতস্যাতে। প্রক্রিয়াজাত করার জন্য এগুলো শুকাতে হয়। এজন্য আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ড্রাইং পদ্ধতিতে বর্জ্যগুলো শুকিয়ে পৃথকীকরণ করা হবে। এই পৃথকীকরণের মাধ্যমেই আমরা আরও বেশি প্লাস্টিক আলাদা করতে পারব। পৃথকীকরণের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে মাটির মতো এক ধরনের পদার্থ, যার মধ্যে থাকবে ছোট ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিক। এগুলো দিয়ে সার না বানালেও ল্যান্ডফিলিংয়ে ব্যবহার করা যাবে।'
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেন, 'আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা মানুষদের সচেতন করতে পারিনি। আমরা বলি, ‘আমরা দ্বিতীয় লন্ডন,’ কিন্তু কার্যকলাপে তা হতে পারিনি।' ভৌগলিক কারণে সিলেট খুবই ইন্টারেস্টিং জায়গায় অবস্থিত। এর উত্তরে টিলা ও চা বাগান; দক্ষিণে সুরমা নদী, আর মাঝখানে সব জায়গাটায় অসংখ্য ছড়া রয়েছে। মূল শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৭টি ছড়া আছে। মাঝেমধ্যে আমি এগুলো দেখতে গিয়ে দেখি অবস্থা ভয়াবহ।'
তিনি বলেন, 'একজন আলোচক বললেন, ছড়ার পেছনে বাড়ি করা হয়েছে। এই বাড়িগুলো সিটি কর্পোরেশন করেনি আমার আত্মীয়-স্বজনরাই করেছেন। যেহেতু আমি সিলেটি, তাই বলছি আমার 'মামাই করেছে’, এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই টয়লেটের লাইনটা ছড়ার মধ্যে গেছে। খুবই খারাপভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তাই সেখানে পানির রং কালো হবেই।'
তিনি আরও বলেন, আমরা চাইনিজ ও কোরিয়ান কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। জানি না, পরিবর্তিত পরিবেশে তারা কতটা এগিয়ে আসবেন। যদি রাজনৈতিক সরকার আসার আগেই তারা বিনিয়োগ করে, তাহলে খুব ভালো হবে। সেক্ষেত্রে নগরবাসী উপকৃত হবেন।'
পরিবেশ দিবস, ময়লা ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা