২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / পরিবেশ

গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক ফেরদৌস

'আজ পর্যন্ত আমরা একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারিনি'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৫ জুন, ২০২৫ ৭:৪৫ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে কাজ করছি। পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বেশ কিছু স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়ে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং একটি সামান্য ফান্ডও প্রদান করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, ২০০২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারিনি। যদি পারতাম, আজ এই পরিস্থিতির এতটা অবনতি হতো না। বরং দিন দিন দূষণ বাড়ছেই।'

বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে গত ৩ জুন, সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো ‘প্লাস্টিক দূষণ ও নগর সিলেট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন । আয়োজনে ছিল ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ ও ‘সিলেট ভয়েস’।

ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, 'বিশ্বব্যাপী এখন স্বীকৃত যে প্লাস্টিক একটি গুরুতর সমস্যা, এবং সমগ্র পৃথিবীই এই সমস্যা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাগর-মহাসাগর থেকে শুরু করে আমাদের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য পর্যন্ত, প্লাস্টিক এমন একটি ঝুঁকি তৈরি করছে যা জীবনের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দিতে পারে।  যদিও এখন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে, আমাদের আরও ব্যাপকভাবে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা দরকার। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আবারও ‘প্লাস্টিক দূষণ’ প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে—এটি এই সংকটের গভীরতা বুঝিয়ে দেয়।'

তিনি বলেন, 'সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিককে আমরা ত্যাগ করতে পারছি না, কারণ এটি আরামদায়ক, স্থায়ী ও সহজলভ্য। এই আরামই আমাদের মূল বাধা। এটা মানতেই হবে, এবং এ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আমাদের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বাস্তবতাকে অস্বীকার মানে বিপদকে অস্বীকার করা। আমাদের মনস্তত্ত্ব যেহেতু এর সঙ্গে জড়িয়ে, সেহেতু সমাধানও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে ভাবতে হবে। মানুষকে সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে যে প্লাস্টিক কীভাবে ক্ষতি করছে—তবেই তারা সচেতন হবে।'

তিনি আজোা বলেন, আশার কথা, মানুষ এখন কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে। পলিথিন যে ক্ষতিকর, তা অনেকেই বুঝছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত, এবং পৃথিবীজুড়ে ভাবা হচ্ছে—কীভাবে পলিথিনকে বিদায় জানানো যায়। যখন পলিথিন আবিষ্কার হয়েছিল, তা ছিল সভ্যতার এক অর্জন। কিন্তু আজ সেই আবিষ্কারই দানবের মতো ফিরে এসে আমাদের ভবিষ্যৎকে গ্রাস করছে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর, ফেরদৌস আনোয়ার বক্তব্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫, প্লাস্টিক দূষণ বাংলাদেশ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ