সিলেট মহানগর নায়েবে আমীর
‘বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষা করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে’
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:১৩ অপরাহ্ন
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ। এ সময় অসুস্থ কোনো রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায় ছোট আকারের নৌকা। উত্তাল পানি ও ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে চলে এই রোগী পরিবহন। অথচ হাওরবাসীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করে চারটি আধুনিক নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দিলেও তা একদিনের জন্যও কাজে লাগেনি। যথাযথ চালক নিয়োগ ও পরিচালনার ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে এখন অকেজো হয়ে পড়েছে সরকারি এই মূল্যবান সম্পদ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এবং ২০১৯-২০২০ সালে জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও তিনটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটির দাম ৬১ লাখ টাকার বেশি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, রোগী পরিবহনের বিশেষায়িত বেডসহ জরুরি চিকিৎসার নানা সুবিধা যুক্ত ছিল আধুনিক এসব নৌযানে। কিন্তু সরবরাহের পর থেকেই এগুলো চালানোর জন্য কোনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, ছিল না জ্বালানি বা রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মিত বরাদ্দও। ফলে দীর্ঘদিন পার হলেও একবারের জন্যও রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়নি এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো।
বর্তমানে এসব নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের কোনোটি পড়ে আছে নদীর তীরে, শরীরজুড়ে ধরেছে মরিচা। কোনোটি রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অযত্নে, আবার কোনোটি থানা চত্বরে বছরের পর বছর অচল অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষাকালে প্রত্যন্ত গ্রামের রোগীদের এখনো ভাড়া করা ছোট নৌকায় করেই যেতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে। অনেক সময় দীর্ঘ এই যাত্রায় রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ তাদের। সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের কথা তারা শুনেছেন বটে, তবে বাস্তবে এর সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি কখনো।
তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, বর্ষাকালে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে ভাড়ার নৌকা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না। সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের কথা অনেক শুনেছি, কিন্তু কোনো দিন চলতে দেখিনি। চালু থাকলে হাওরের মানুষের অনেক উপকার হতো।
শাল্লা উপজেলার বাহারা ইউনিয়নের বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, রাতে বা ঝড়-বৃষ্টির সময় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে খুব কষ্ট হয়। ছোট নৌকায় করে যেতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স থাকলে অন্তত নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়া যেত।
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জসিম উদ্দিন শরিফী বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সগুলো পরিত্যক্ত থেকে অনেক আগেই অকেজো হয়ে যাওয়ায় আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। নতুন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠাবো।
স্বাস্থ্যসেবা, হাওর, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স, সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা