১৩ জুলাই ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পাঠ্যপুস্তকে কবি লায়লা রাগিবের কবিতা অন্তর্ভুক্তির দাবি

৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভায় বক্তারা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশঃ ১২ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৪ অপরাহ্ন


কবি লায়লা রাগিবের সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তার কবিতা জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তাদের মতে, সহজ-সরল ভাষায় সমাজ, প্রেম, মানবিকতা ও মূল্যবোধের কথা বলা লায়লা রাগিবের কবিতা বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।


গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) মিলনায়তনে কবি লায়লা রাগিবের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এ দাবি জানান।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, অল্প সময়ের সাহিত্যজীবনেই কবি লায়লা রাগিব বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। মাত্র ৩০ বছরের জীবনে তিনি সহজ ভাষায় কবিতা লেখার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


তিনি বলেন, ‘ঠোঁটের ভাষায় কবিতা লিখুন’—এই স্লোগানের মাধ্যমে কবি লায়লা রাগিব সাধারণ মানুষের ভাষাকে কবিতার মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, সমাজবাস্তবতা ও মানবিকতার নানা দিক উঠে এসেছে। অথচ কোথাও অশ্লীলতার আশ্রয় নেই। মৃত্যুর চার দশক পরও তাঁর সাহিত্য নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হচ্ছে, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের স্থায়িত্বেরই প্রমাণ। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।


কবি লায়লা রাগিব স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি কবি বেলাল আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক কাউসার চৌধুরী।


স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, লেখক জামান মাহবুব এবং সিলেট লেখিকা সংঘের সভাপতি কবি রওশন আরা চৌধুরী।


প্রধান আলোচক ছিলেন সাহিত্যিক ও কবি অধ্যাপক বাছিত ইবনে হাবিব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট লেখিকা সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি ইশরাক জাহান জেলী।


কবি পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন কবি লায়লা রাগিবের স্বামী কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী।


এছাড়া যমুনা অয়েল লিমিটেডের পরিচালক ও বাচিকশিল্পী কবি সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কবি মুহিত চৌধুরী, রুহুল ফারুক, আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, নাজমুল আনসারী, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, এখলাসুর রহমান, মুশতাক চৌধুরী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, রাহনামা শাব্বির চৌধুরী, কাউসার আরা ও নিলুফা ইসলাম নিলুসহ অনেকে স্মৃতিচারণ করেন।


অনুষ্ঠানে কবি লায়লা রাগিবের কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মাওলানা আলী আহমদ। কবিকে নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি নিশাত ফাতেমা। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন আব্দুল আজিজ। পরে কবির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন সৈয়দ রেজাউল হক।


এসময় কবির ছেলে লবিদ হোসেন চৌধুরীসহ সিলেটের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, সত্তরের দশকের অন্যতম আধুনিক কবি লায়লা রাগিব ১৯৮৬ সালের ৯ জুলাই মাত্র ৩০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি সিলেট লেখিকা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সাহিত্যপত্র কবি সংলাপ-এর সম্পাদক ছিলেন। তাঁর 'ঠোঁটের ভাষায় কবিতা লিখুন' আহ্বান বাংলা কবিতায় একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে আলোচিত।


শেয়ার করুনঃ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে আরো পড়ুন

লায়লা রাগিব, কবি লায়লা রাগিব, লায়লা রাগিব স্মরণসভা, লায়লা রাগিবের মৃত্যুবার্ষিকী, সিলেট লেখিকা সংঘ, কবিতা পাঠ্যপুস্তক, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ