শ্রীমঙ্গলে তুলাবাহী ট্রাকে অগ্নিকাণ্ড, অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে থাকায় উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদেই এখন নিয়মিত কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধীরগতি, ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনকে শান্তিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি মূলত প্রয়োজনীয় রুটিন কার্যক্রমই পরিচালনা করছেন। সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে শান্তিগঞ্জে আসতে পারায় অধিকাংশ সময়ই উপজেলা প্রশাসন কার্যত স্থায়ী নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা চলতি বছরের ১০ মে থেকে পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।
দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, অনুমোদন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না।
বিশেষ করে জরুরি প্রশাসনিক অনুমোদন, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভূমি অফিসের কার্যক্রম এবং জন্ম নিবন্ধনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনেও বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারভুক্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ভূমি-সংক্রান্ত সেবায়ও কাঙ্ক্ষিত গতি নেই বলে জানা গেছে।
স্থায়ী ইউএনও না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিয়মিত তদারকির অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন প্রকল্প এবং বরাদ্দের কাজও আটকে রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সচেতন মহলের মতে, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার পক্ষে নিজ উপজেলার পাশাপাশি অন্য উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা খুবই কঠিন। ইউএনও একটি উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা ও শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, মূল দায়িত্বে জগন্নাথপুর উপজেলায় রয়েছি। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছি। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পরও দুই উপজেলায় প্রয়োজনীয় সময় দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুন মাস সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এ মাসের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেনি। বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের অপেক্ষায় রয়েছি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ শূন্য রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ ন্যস্ত করা হলে, বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় প্রশাসনিক প্রয়োজন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে সুনামগঞ্জ জেলার শূন্য পদগুলোতে পদায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শীঘ্রই শূন্য পদে পদায়ন করা হবে।
সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, প্রশাসন, ভোগান্তি