তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল সড়ক, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২১ জুন, ২০২৬ ৭:২৪ অপরাহ্ন
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রোববার দুপুরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর অংশে ঢলের পানি উঠে গেলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল পর্যন্ত সড়কে অল্প পানি থাকলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পুরো সড়ক ডুবে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে। এর প্রভাবে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হারিয়েছেন। ছোট-বড় প্রায় শতাধিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে অনেককে নৌকায় করে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।
তাহিরপুরের বাসিন্দা কাদির মিয়া বলেন, মেয়েকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে রাতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। সকালে হাসপাতালে ফেরার পথে আনোয়ারপুর এলাকায় এসে দেখেন সড়ক পানির নিচে। ফলে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি।
আলহাদি মিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, জরুরি কাজে সুনামগঞ্জে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু সড়ক ডুবে যাওয়ায় মাঝপথে আটকে পড়তে হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মুসা মিয়া বলেন, সকালে মোটরসাইকেলে করে তাহিরপুরে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় এসে দেখেন সড়ক পানির নিচে। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় মোটরসাইকেল পার করতে হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সকালে সড়কে পানির পরিমাণ কম ছিল। তবে উজানের ঢল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেলা গড়ানোর আগেই সড়কটি তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি আরও বাড়বে। পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, আনোয়ারপুর সড়ক, পাহাড়ি ঢল, সুনামগঞ্জ বন্যা, সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, যাদুকাটা নদী, উজানের ঢল, তাহিরপুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সুনামগঞ্জ পানি বৃদ্ধি, সুনামগঞ্জ খবর, হাওরাঞ্চল, বন্যা আশঙ্কা, পানি উন্নয়ন বোর্ড