হাওরে ফসল ডুবি: সহায়তার তালিকায় নাম নেই ক্ষতিগ্রস্তদের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৮ জুন, ২০২৬ ৫:৫৩ অপরাহ্ন
বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ফসল হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার অনেক কৃষক। অথচ সরকারি কৃষি সহায়তার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। বরং তালিকায় স্থান পেয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যাঁদের কৃষি ক্ষতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। একই পরিবারের দুই, তিন এমনকি চারজন সদস্যের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালিকা প্রণয়নে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রভাব ও স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে যাঁদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা দরকার, তাঁরাই তালিকার বাইরে থেকে গেছেন।
এর আগে উপজেলার দাসনাগাও ও আশারকান্দি ইউনিয়নে কৃষি সহায়তার তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তালিকা সংশোধন করতে বাধ্য হয়। এরপর অন্যান্য ইউনিয়নেও একই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সর্বশেষ চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
পৌর এলাকার কৃষক ওয়াবিদ মিয়া বলেন, কয়েক একর জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তাঁর নাম নেই। অথচ পাশের বাড়ির একই পরিবারের কয়েকজনের নাম তালিকায় উঠেছে। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, তারাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে।
আশারকান্দি ইউনিয়নের মেম্বার ফজলু মিয়া জানান, তাঁর ওয়ার্ডে যাঁদের ধান নষ্ট হয়েছে তাঁদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। আবার যাঁদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাঁদের নামও রয়েছে। এতে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
দাসনাগাও গ্রামের কৃষক অনিল দাস বলেন, সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চাইছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হলে প্রকৃত কৃষকরাই বঞ্চিত হবেন। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা তালিকা পুনর্যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে। তালিকায় কোনো অনিয়ম বা ভুল পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় সরকারি কর্মসূচির আওতায় জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সেই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কৃষক, হাওর, ক্ষতিগ্রস্ত