১৭ জুন ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, সুনামগঞ্জজুড়ে তীব্র লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন


চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় সুনামগঞ্জজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে ১২টি উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে মানুষকে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নারীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর শহরে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে দৈনিক ১২ থেকে সাড়ে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে পিডিবির ৯টি ফিডারের মধ্যে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে ৩ থেকে ৪টি ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সুনামগঞ্জ প্রধান গ্রিড সাব-স্টেশন (১৩২/৩৩ কেভি) ও ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের মধ্যে ভাগ করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা জিলানী মিয়া বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ে আমরা অতিষ্ঠ। দিনে গড়ে ১২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাই, বাকি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাসির বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। গত এক সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে ঘুমানো যায় না, শিশুদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বকাপের খেলার সময়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে একাধিক ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা প্রাপ্ত বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, বিদ্যুৎ, লোডশেডিং, বিদ্যুৎবিহীন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ