জাফলংয়ের কূপ থেকে দেশীয় পিস্তলসহ আটক তিনজন
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৬ মে, ২০২৫ ৬:৩৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল। প্রায় ২৭ লাখ মানুষের চিকিৎসা নির্ভর করে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালেই চলছে চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে গিয়ে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে হাসপাতালের শৌচাগার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
দুদক জানায়, হাসপাতালে নিয়মিত অফিস না করার প্রবণতা রয়েছে। সার্বিকভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। আজকের অভিযানে অফিস প্রধানসহ দুজন অনুপস্থিত ছিলেন। টেকনিশিয়ান আনোয়ার হোসেন ছুটির আবেদন ছাড়াই উপস্থিত ছিলেন না। যদিও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাঁকে মৌখিকভাবে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি কোনো নিয়মের আওতায় পড়ে না।
অভিযানে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ধরা পড়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে। সরকারি ও স্থানীয়ভাবে কেনা ওষুধের রেজিস্ট্রারে গরমিল, অস্পষ্ট হিসাব এবং গুদামে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ পাওয়া যায়, যেগুলো রেজিস্ট্রারে ছিল না। রোগীদের জানানো হয়েছে, এসব ওষুধ হাসপাতালে নেই। অথচ প্রকৃতপক্ষে ওষুধগুলো গুদামেই মজুত ছিল।
ফার্মেসির দায়িত্বে থাকা সুলেয়াম নামের একজন কর্মী এখন অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মে মাসের আগের কোনো রেজিস্ট্রার খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে ২–৩ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হলেও তার কোনো হিসাব মেলেনি। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ওষুধ বিতরণকারীর আলমারিতেও রেজিস্ট্রারবিহীন বহু ওষুধ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ওষুধ রোগীদের না দিয়ে স্থানীয় ফার্মেসিতে বিক্রি করা হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আছিয়া খাতুন বলেন, 'তিন দিন ধরে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ পাচ্ছি না। বারবার বললে বলে নেই। অথচ এখন শুনছি সেই ওষুধ গুদামে ছিল, আমাকে দেয়নি।'
আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'শিশুদের ওষুধও বলে নাই। ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব না হইলে তো সরকারি হাসপাতালে আসতাম না। খরচ কমাতে আইসা হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে নিজেই অসুস্থ হয়ে গেছি।'
দুদকের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার সিলেট ভয়েসকে বলেন, 'আমরা অভিযানে এসে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। রোগীদের ব্যবহারের শৌচাগারগুলো এতটাই নোংরা যে তা ব্যবহার অনুপযোগী। অথচ চিকিৎসক ও নার্সদের শৌচাগার একেবারে পরিষ্কার। আমরা গুদামে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ পেয়েছি, যা রেজিস্ট্রারে নেই। অথচ রোগীদের বলা হয়, এসব ওষুধ মজুদ নেই। মে মাসে শেষ হওয়া টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে কর্মকর্তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। অফিস প্রধান অনুপস্থিত থাকায় তাঁরা সহযোগিতা করতে পারেননি। আজকের অভিযানেও কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট অসহযোগিতা করেছে।'
তিনি আরও জানান, সব অভিযোগের প্রাথমিক কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে, যেখানে আরও অনিয়মের তথ্য উঠে আসতে পারে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, দুদক অভিযান সুনামগঞ্জ, হাসপাতাল অনিয়ম বাংলাদেশ, সরকারি হাসপাতাল দুর্নীতি