জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত, আহত ১
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১০ মে, ২০২৬ ৯:২৬ অপরাহ্ন
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জনকল্যাণে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, জনসচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব। তাই খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
রোববার (১০ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে, কিন্তু তার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয় জনগণকে সঙ্গে নিয়েই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জনকল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। কোন খাল কোথায় খনন হবে এবং কোথায় বৃক্ষরোপণ করা হবে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেবে এবং সিলেট জেলায় একদিনে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদ আহমদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করে। গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের চারটি সংস্থা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কাইয়ুম চৌধুরী, সিসিক