০১ মে ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / বাজারদর

স্থানীয় উৎপাদন কমে অর্ধেকে, সিলেটে লাগামহীন সুপারির বাজার

মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে শুকনা সুপারির দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সুপারির বাজারে এতোটা অস্থিতিশীলতা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে, দাবি ব্যবসায়ীদের

আহমেদ জামিল

প্রকাশঃ ২৪ মে, ২০২৫ ৯:২৩ অপরাহ্ন


সিলেটে লাগামহীন সুপারির বাজার। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে শুকনা সুপারির দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সুপারির বাজারে এতোটা অস্থিতিশীলতা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, অতীতে সুপারির দাম বৃদ্ধি পেলেও তা মাস খানেকের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতো। কিন্তু অন্তর্বতী সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে সুপারির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সুপারি আমদানিতে কর বেড়ে যাওযায় সুপারির দাম দিগুণের চেয়ে বেশি। সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা দামের সুপারির কেজিও এখন ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে সুপারির দামে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুপারির ফলন কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে চাষাবাদ ও ফলন দুটোই অর্ধেকের চেয়েও বেশি। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও সুপারির ফলন বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। এতে বড় ধরণের সংকট তৈরি হয়েছে সুপারির বাজারে। 

সিলেটে অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম অনুষঙ্গ পান-সুপারি। প্রতিটি বাড়িতে খাবারের পরেই পান-সুপারি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন দোকানেও পান সুপারি বিক্রি করা হয়।  

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ না হলেও জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সুপারি চাষ করা হয়। তাছাড়াও অন্যান্য উপজেলায়ও সুপারির গাছ রয়েছে। 

সিলেটে প্রতিবছর কী পরিমাণ সুপারির চাহিদা রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুপারি সিলেটের মানুষের পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে পারে না। যার কারণে আমদানির উপর নির্ভরশীল সিলেটে সুপারির বাজার। 

অন্যদিকে সিলেটের ব্যবসাীয়রা বিভিন্ন দেশ থেকে সুপারি আমদানী করতে না পারায় চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাইকারিতে ক্রয় করেন। যে কারণে ঘাটে ঘাটে হাত বদলের কারণে সিলেটে এসে পৌঁছানোর পর দাম বেড়ে যায় অনেকাংশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, সিলেটে প্রতিবছর কমছে সুপারির উৎপাদন। ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলায় ২,২৩৭ হেক্টর সুপারির আবাদ ছিল। ওই বছর সুপারির উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১,১৮৪ হেক্টর আবাদ করে ৭ হাজার ৫৩৩ মেট্রিক টন সুপারির উৎপাদন হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও ১,১৮৪ হেক্টর আবাদ করে ৭ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুপারির আবাদ ও উৎপাদন দুটোই কমেছে অর্ধেকের চেয়েও বেশি। 

শুকনা সুপারি কেজিতে বেড়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা


সিলেট নগরীর কাজির বাজারে পাইকারি দরে সুপারি বিক্রি হয়। এই বাজারে ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করেন আতিকুর রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে কখনও এতোটা অস্থিতিশীল হতে দেখেননি তিনি।

আতিকুর রহমান বলেন, কখনও কখনও সুপারির দাম বেড়েছে। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ দিন সর্বোচ্চ ১ মাসের মধ্যে আবার সহনশীল পর্যায়ে চলে আসতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুপারির বাজর ঊর্ধ্বমুখী। আমদানি কর না কমালে দাম কমার সম্ভাবনাও দেখছেন না তিনি। 

কাজিরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় (স্থানীয়) সুপারি খুবই কম। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা শুকনা সুপারি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

শনিবার (২৪ মে) কাজিরবাজার এলাকার বিভিন্ন বিভিন্ন পাইকারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডী সুপারি প্রতিকেজি ৭৩০ থেকে ৮২০ টাকা, সিঙ্গাপুরী ছোট থেকে মাঝারি সাইজ ৬৮০ থেকে ৭৩০ টাকা, বড় সাইজ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান ৬৫০ থেকে ৭২০ টাকা এবং দেশীয় সুপারি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরণের সুপারি প্রতিকেজি ১ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।  
অথচ ছয় থেকে আট মাস আগে থাইল্যান্ডী সুপারি প্রতিকেজি ৩৪০-৪০০ টাকা, সিঙ্গাপুরী ৩৫০-২৮০ টাকা এবং দেশীয় সুপারি ২৫০-৩৫০টাকা দরে বিক্রি হয়। 

আজিজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের সত্বাধিকারী তাহমিদ রহমান নাফি বলেন, আমদানি কর বেড়ে যাওয়ায় সুপারির দাম বেড়েছে। কর না কমলে দাম কমার সম্ভাবনা নেই। 

তিনি আরও বলেন, এই বছর দেশে সুপারির উৎপাদনও কম হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল অনেক চাহিদা মিটাতো। কিন্তু এবছর সুপারির ফলন কম হওয়ায় আমদানি করা সুপারি দিয়ে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, সিলেটে বজ্রপাতে অনেক সুপারি গাছ মারা যাচ্ছে। যার কারণে গাছ কমে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, সুপারি গাছ দীর্ঘ মেয়াদি ফসল। একটি গাছে ফসল ধরতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বছর লাগে। যার কারণে অনেকে সুপারি গাছ লাগাতে চান না। এজন্য সুপারির উৎপাদন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। 


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, সুপারি, বাজারদর, দাম , ফলন, আমদানি, কর বেড়েছে

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ