০৫ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

জগন্নাথপুরে সাতদিন পর রোদের দেখা, ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষকরা

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৫ মে, ২০২৬ ৩:১১ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে টানা সাত দিনের মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পর অবশেষে মঙ্গলবার দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত রোদের। এতে স্বস্তি ফিরেছে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে। সকালের পর থেকেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে প্রখর রোদ উঠলে মাঠ ও বাড়ির আঙিনায় ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষক-কৃষাণীরা। দীর্ঘদিন রোদের অভাবে হাওর থেকে কাটা ধান শুকাতে না পেরে অনেক কৃষক বিপাকে পড়েছিলেন।


স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিচু এলাকার হাওরগুলো থেকে কাটা ধান ভেজা অবস্থায় পড়ে ছিল। রোদ না থাকায় ধানে পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়, অনেক ক্ষেত্রে ধানে গেরা (অঙ্কুর) পর্যন্ত দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে অনেকে ভেজা ধান বাড়িতে স্তূপ করে রেখেছিলেন।


মঙ্গলবার রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাড়ির আঙিনা, ফাঁকা মাঠ এবং পিচঢালা সড়কের পাশে ধান শুকানোর দৃশ্য দেখা গেছে। দ্রুত ধান শুকিয়ে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।


কৃষকরা বলছেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রোদ ওঠায় সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। তাদের আশা, টানা দুই-তিন দিন রোদ থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা কমে আসবে।


জগন্নাথপুর পৌরসভার বাসিন্দা কুলসুমা বেগম বলেন, “ধানের মধ্যে গেরা চলে আসছিল, আজ রোদে শুকাতে দিয়েছি। আল্লাহ যদি আরও কয়েকদিন রোদ দেন, তাহলে বাঁচতে পারব।”


উপজেলার কৃষক মাহবুব হোসেন বলেন, “কয়দিনের বৃষ্টিতে বড় ক্ষতি হয়েছে। এখন রোদ পেয়েছি, ধান শুকানোর চেষ্টা করছি।”


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, এই রোদ কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। ঠিকমতো ধান শুকাতে পারলে এর গুণগত মান ভালো থাকবে এবং ন্যায্য দাম পাওয়া সম্ভব হবে। 


তিনি বলেন, “আরও দুই-তিন দিন রোদ থাকলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।”


কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ শেষ করতে পারলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকেও ফসল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর ধান, সুনামগঞ্জ হাওর, ধান শুকানো, কৃষকের স্বস্তি, আবহাওয়া সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ