০৫ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

মৌলভীবাজারে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা, ফসলহারা কৃষকের হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ৪ মে, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ন


টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টঁ জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলার কাউয়াদিঘি ও হাকালুকি হাওর এলাকায় ডুবে গেছে পাকা ও আধাপাকা ধান। এতে কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন শুধু হাহাকার।

এদিকে আকস্মিক এই বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জেলায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের ধারণা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ফলে জেলার অন্তত ১৮ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৮৭ শতাংশ এবং উঁচু এলাকায় ৩৪ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও আকস্মিক ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির নিচে ডুবে আছে পাকা ধান। কোথাও কোথাও পচা ধানের স্তূপ, আবার কোথাও খোলা জায়গায় ফেলে রাখা ধান থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ।

হাওরপাড়ের কৃষকরা বলছেন, ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই শ্রমিক ও হারভেস্টার সংকটে তারা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। ফলে হঠাৎ পানির চাপ শুরু হলে সবকিছু হারিয়ে ফেলতে হয়েছে তাদের। এতে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন এসব কৃষকরা।   

সদর উপজেলার বিরইমাবাদের কৃষক পঙ্কি মিয়া জানান, প্রায় ২০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। এর মাঝে মাত্র ৩ বিঘা জমির ধান কেটেছেন এবং বাকি সব পানির নিচে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘বুকসমান পানিতে এখন আর কেউ নামতে চায় না। আমি আশা ছেড়ে দিয়েছি।’

একই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম ও মুকিত মিয়া জানান, হাওর কাউয়াদিঘির লামার বাঁধ এলাকায় তাদের ৯০ বিঘা জমি ছিল। সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা বলেন, ‘সারা বছরের খোরাকি পানির নিচে চলে গেছে। এখন কী করব, তা নিয়ে হতাশায় আছি। ফসল হারানোর এই বেদনা ভুলতে পারছি না। বুকসমান পানির তল থেকে ধান উঠাইয়া লাভ নেই।’

রাজনগরের কৃষক মজর মিয়া বলেন, ‘কাউয়াদিঘি হাওরের মাঝের বাঁধ এলাকায় আমাদের ২৫ বিঘা জমিতে পাকা ধান ছিল। শ্রমিক ও হারভেস্টার সংকটের কারনে ধান উঠাইতে পারিনি। কোনোমতে ৪-৫ বিঘার ধান তুলেছি। এখন সারা বছর কী খাব, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আকস্মিক ঢলে ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার কৃষক।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, হাওরে ৮৭ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে, নন-হাওরে ৩৪ শতাংশ। তবে, মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মতে, হাওর ও নন-হাওরে ধান কর্তনের পরিমাণ ৩০ শতাংশ। বিষয়টি সঠিক হবে বলে মনে হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ হিসাব না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

মৌলভীবাজার হাওর, বোরো ধান ক্ষতি, হাকালুকি হাওর, কাউয়াদিঘি হাওর, কৃষক ক্ষতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ