১৭ জুন ২০২৬

রাজনীতি

জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ন


জনগণই এই দেশের প্রকৃত মালিক এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের মূল শক্তিও এই জনগণ এমন দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিল এই দেশের জনগণ। বিদেশ থেকে কেউ এসে স্বাধীনতা এনে দেয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেও এই দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্র, জনতা, নারী-পুরুষ সকলে মিলে রাজপথে নেমে এসে। তিনি বলেন, "এই দেশকে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে এই বাংলাদেশের জনগণ।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি অলস হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন কখনো সম্ভব হবে না। দেশ গড়তে হলে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নয়ন কাজ করার, শিক্ষার ব্যবস্থা করার, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার ঠিক একইভাবে জনগণকেও তাদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, এই বাংলাদেশের মাটিই তাঁর প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এই বাংলাদেশই আমাদের সকলের প্রথম ও শেষ ঠিকানা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কাজেই এই দেশকে যদি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সকলকে হাতে হাত মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো দলের সরকার নয়, এটি বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের যেমন সরকার, যারা ভোট দেননি তাদেরও সরকার। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সরকারের সব সুবিধা সমানভাবে পাবেন বলে তিনি জানান। তারেক রহমান বলেন, "আমরা সকলের জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই সে এই সকল সুবিধা পাবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখনই ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায়, দেশের অর্থনীতি যখনই গতি পেতে শুরু করে, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতেও ১৭৩ দিন হরতাল, ভাঙচুর ও অবরোধ দিয়ে দেশের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। সেই একই মহল আজ আবার বলছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এ কথা বলছে তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, নাকি নিজেদের স্বার্থে?

তারেক রহমান বলেন, জনগণই যেহেতু এই দেশের মালিক, তাই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সব কিছুই তিনি জনগণের হাতে সঁপে দিতে চান। মালিক যদি সতর্ক থাকেন, তাহলে কোনো অপশক্তিই দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি, আগামী দিনের প্রত্যাশা এবং সকল কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে এই দেশ ও এই দেশের মানুষ। তিনি সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

মৌলভীবাজার, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ