শিশু আয়াত হত্যা: আসামি আবীরের ফাঁসির রায়
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ৪:৪৫ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা এবং মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে সাগরে ফেলে দেওয়ার বহুল আলোচিত মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এই মামলায় একমাত্র আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত লাশ গুম ও অপরাধের আলামত নষ্ট করার অভিযোগও প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আবিরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন আসামি আবির আলী। আদালতের আদেশের পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জালাল উদ্দিন বলেন, শিশু আয়াতকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিভিন্ন আলামত এবং তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেশী আবির আলীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে সে।
তদন্তে জানা যায়, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল আবির। তবে অপহরণের পর আয়াত চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন রেখে প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছয় টুকরো করা হয়। খণ্ডিত দেহাংশ আকমল আলী ঘাটের স্লুইসগেটসংলগ্ন সাগর ও নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে পিবিআই অভিযান চালিয়ে সাগরের পিট এলাকা থেকে আয়াতের মাথা ও পায়ের অংশবিশেষ উদ্ধার করে। এসব আলামত এবং আসামির স্বীকারোক্তি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আয়াতের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তারা।
২০২২ সালের নভেম্বরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। শিশু আয়াতের নিখোঁজ হওয়া, পরে হত্যার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসা এবং খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো জনমনে গভীর নাড়া দিয়েছিল। সেই আলোচিত মামলার রায়ে বুধবার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
শিশু হত্যা, আবির আলী, মৃত্যুদণ্ড, অপহরণ, বিচার