২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

দিরাইয়ে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ৬০০ হেক্টর জমির পাকা ধান

প্রতিনিধি, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ন


টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরাঞ্চলে অন্তত ৬০০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। শ্রমিক সংকট, হারভেস্টার মেশিন নামাতে না পারা এবং রোদের অভাবে কাটা ধানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

 

এদিকে সচেতন মহলের দাবি, বাস্তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার ফলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির পাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে ধান কাটাও হয়ে উঠছে দুষ্কর।

 

অনেক কৃষক পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজেই নেমেছেন ধান কাটতে। কেউ নৌকায়, কেউ সাঁতার কেটে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কাটা ধানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। রোদ না থাকায় মাড়াইকৃত ধান শুকানো যাচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে ধানে অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে।

 

বরাম হাওরপাড়ের উজানধল গ্রামের কৃষক কুলেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ৩০ কেদার (বিঘা) জমি করছিলাম, মাত্র ৬ কেদার জমির ধান কাটতে পারছি। বাকি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি থাকায় ধান কাটার মেশিন কাজে আসছে না। শ্রমিক সংকটে পাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে।

 

ভাঙ্গাডহর গ্রামের প্রণয় ব্রহ্মচারী জানান, ভরাম হাওরে ২৬ কেদার জমি মধ্যে ১৮ কেদার তলিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০ কেদার জমি তলিয়ে গেছে বৃষ্টি না থামলে আজকের মধ্যে সব তলিয়ে যাবে। মাত্র ৮ কেদার জমির ধান কাটছি তাও মাড়াই দিতে পারছি না। তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি।

 

ইসলাম পুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়া জানান, ৭ কেদার জমির করছি, আজ তলিয়ে যাওয়া জমির ধান কাটতে আসছি।কোন শ্রমিক না পাওয়ায় পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেল। তাই আজ স্ত্রী কে সাথে নিয়ে দুজনেই কোমর পানিতে ধান কাটতে দেখা যায়।

 

কালিকোটা হাওরপাড়ের কৃষক মুছন মিয়া জানান, আমার অর্ধেকের বেশি জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটবার মানুষও নাই মেশিনও নাই, তাই আমার পাকা ধান চোখের সামনেই পানির নিচে গেল।


হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিত বাধেঁর কারণে প্রতিটি হাওরের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আজ কৃষকের এই দুর্ভোগ।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলছেন, বৃষ্টির পানিতে অন্তত ছয়শত হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পরিমান বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও বাড়বে বলে জানান তিনি। 


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

দিরাই হাওর, পাকা ধান ক্ষতি, জলাবদ্ধতা, কৃষকের দুর্ভোগ, সুনামগঞ্জ বৃষ্টি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ